অর্থ সহায়তা পাচ্ছে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুরা

|

আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সুন্দরবনের ১২টি বনদস্যু বাহিনীর ১৩২ জন সদস্যকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে অর্থ সাহায্য দিতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিল থেকে তাদের প্রত্যেককে নগদ এক লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর পক্ষ থেকেও দস্যুবৃত্তি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা বাহিনীগুলোর সদস্যদের নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, তাদের জন্য থাকছে বিশেষ ‘ঈদ উপহার’।

আগামী ২৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বাগেরহাট যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

২০১৬ সালের ৩১মে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সুন্দরবনের বনদস্যু ‘মাস্টার বাহিনী’ প্রধান কাদের মাস্টার ও তার ৯ সহযোগীর আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে বনদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা শুরু হয়। আত্মসমর্পণকালে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ এ বাহিনী ৫২টি অস্ত্র ও সাড়ে ৫ হাজার রাউন্ড গুলি সোপর্দ করে। এরপর গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ একে একে আত্মসমর্পণ করে ১২টি দস্যু বাহিনীর ১৩২ জন সদস্য।

Bangladesh

সুন্দরবনের দস্যুবাহিনীর আত্মসমপর্ণের একটি দৃশ্য

সুন্দরবনের ত্রাস এসব দস্যুদলের আত্মসমর্পণে মধ্যস্থতা করেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মোহসীন-উল হাকিম।
তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের দুর্গম অঞ্চলে এসকল দস্যুবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য দুরূহ কাজ। এতে রক্তপাত, প্রাণহানির আশঙ্কা ছিলো। মূলত, শান্তিপূর্ণ উপায়ে এসকল দস্যুবাহিনীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ভাবনা থেকেই আমি কাজ শুরু করি। র‌্যাবও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। র‌্যাব-৮ এর তৎকালীন অধিনায়ক ও উপ-অধিনায়ক আদনান কবীর পুরো আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।‘

র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ার উজ জামান বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ সুন্দরবন ও সাগরের উপর নির্ভরশীল। মাছ, শুটকি, মধু, গোলপাতা, কাঁকড়া ও কাঠ সংগ্রহ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। বিপথগামী কিছু ব্যক্তি স্ব-নামে বাহিনী গড়ে তুলে এই পেশাজীবীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, অপহরণসহ নানা অপরাধ করে আসছিল’।

সুন্দরবন ও সাগরের উপর নির্ভরশীল মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব-৮ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শান্তিপূর্ণ উপায়ে একসাথে এত বিপুল সংখ্যক দস্যুবাহিনীর আত্মসমর্পণের ঘটনা বিরল। দেশি গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

যমুনা অনলাইন: টিএফ









Leave a reply