স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে উন্মুক্ত হলো মসজিদে নামাজ আদায়

|

একমাস পর সব মুসল্লির জন্য উন্মুক্ত হলো মসজিদ। আজ জোহর থেকেই মিললো নামাজ আদায়ের সুযোগ। এতে উচ্ছসিত মুসল্লিরা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নামাজ আদায় করা হচ্ছে। মসজিদে ঢোকার আগে দেখা যায় সাবান পানি কিংবা জীবাণুনাশক দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিচ্ছেন মুসল্লিরা। মসজিদের ভেতরও জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৬ এপ্রিল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের সব মসজিদে মুসল্লি সংখ্যা সীমিত করা হয়। এতোদিন পাঁচ ওয়াক্তের জামাতে সর্বোচ্চ ৫ জন, জুমার নামাজে ১০ ও তারাবির নামাজে ১২ জন অংশ নেয়ার অনুমতি ছিলো।

এরপর ৬ মে ১২ দফা শর্তসাপেক্ষে মসজিদগুলো সুস্থ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে জামাতে নামাজের জন্য অনুমতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য ১২ টি নির্দেশনা হলো নিম্নরূপ:

১. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুণাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

২. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

৩. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ তিন ফুট পর পর দাঁড়াতে হবে।

৫. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

৬. সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৭. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

৮. মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা যাবে না।

৯. উল্লিখিত শর্ত পালন সাপেক্ষে প্রত্যেক মসজিদে সর্বোচ্চ পাঁচজন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ইতেকাফ এর জন্য অবস্থান করতে পারবেন।

১০. করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা যাচ্ছে।

১১. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার হবে।

১২. খতিব, ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।









Leave a reply