লক্ষ্মীপুরে সরকারি চাল কেনায় আটক ২, জব্দ ২১ মণ

|

আটক সোহাগ ও স্থানীয় জেলে হারুন মাঝি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরে জেলেদের সরকারি চাল কেনার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে সদর উপজেলা চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তাদের আটক করা হয়।

এসময় তাদের হেফাজত থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশিদ ২১ মণ চাল জব্দ করেছেন। জানা গেছে, সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়ালের বিরুদ্ধে জেলেদের বিনামূল্যের চাল অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে শনিবার দুপুরে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চাল না পাওয়া কিছু জেলে বিক্ষুব্ধ হয়ে য়ায়।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জেলা প্রশাসক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করেন। এর প্রেক্ষিতে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তারা ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়ালের ভাগিনা সোহাগ ও স্থানীয় জেলে হারুন মাঝির বাড়ি থেকে ২১ মণ চাল জব্দ করে। তাদের দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল দুইমাস মেঘনায় মাছ শিকারে যায়নি চররমনী মোহন ইউনিয়নের জেলেরা। এই দুই মাস খাদ্য সংকট দূর করতে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে ৩ হাজার জেলের জন্য দুইমাসে ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়াল প্রতিমণ চাল ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকায় অন্যত্র বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ওজনেও চাল কম দেয়া হয় বলে জেলেদের পুরনো অভিযোগ।

জেলা পরিষদের সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, অসহায় জেলেদের চাল না দিয়ে ইউছুফ ছৈয়াল অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছে। হারুন মাঝির বাড়ি থেকে ১৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ঘরে গিয়ে সরকারি চাল পাওয়া গেছে। যাদের জেলে কার্ড নেই।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আলমগীর হোসেন আমার সঙ্গে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে আসছে। আলমগীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সেখানে কয়েকজন জেলের চাল একত্রে করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সদর উপজেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশিদ জানান, সরকারি চাল বিক্রির দায়ে চালসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের প্রত্যেককে প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, এরসঙ্গে সরকারি কোন কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।









Leave a reply