করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস

|

করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস

করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস মো. ওয়াহেদুর রহমান

তোয়াহা ফারুক:

করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. ওয়াহেদুর রহমান। তিনি যমুনা নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মো. ওয়াহেদুর রহমান জানান, কাকতালীয়ভাবে আমার করোনা শনাক্ত হয়। গত ১৭ মার্চ আমার শ্বশুরের একটি অপারেশন হয়। পরে ২৩ মার্চ আমি জানতে পারি অপারেশন করা ডাক্তারদের মধ্যে একজন টোলারবাগে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির জামাতা। তারও করোনা ধরা পড়ে। তখন আমি আমার স্ত্রী ও শ্বশুরের করোনা পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেই। নমুনা নিতে আসতে দেরি করায় এর মধ্যে আমিও অফিস থেকে হাসপাতালে চলে যাই। তখন ভাবলাম আমার নমুনাও দিয়ে দেই। তাদের করোনা নেগেটিভ আসে আর আমারটা পজেটিভ হয়। সেই ডাক্তার ভদ্রলোক থেকে সংক্রমিত হলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার কথা ছিল। ধারণা করছি মন্ত্রণালয়ে আমার রুমে অনেক বিদেশিরা আসেন, অপেক্ষা করেন। সেখান থেকেও হয়তো সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তিনি মোটামুটি সুস্থ ছিলেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে তার স্ত্রী তার দ্বারা সংক্রমিত হন। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিলেও তার স্ত্রীকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি বলে জানান ওয়াহেদুর রহমান।

সপ্তাহখানেক আগে তিনি ক্ষতিপূরণের আবেদন করেন। জানান, আমি মন্ত্রী মহোদয় থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করি। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফরোয়ার্ড করেছেন। আমি ক্যাডার সার্ভিসের প্রথম ব্যক্তি যার করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরিবার নিয়ে প্রায় দু’মাস ধরে একটা ট্রমার মধ্যে আছি।

করোনা শনাক্তের বিষয়টি প্রথমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অস্বীকার করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি প্রকাশ না করার কিছু আমি দেখিনি। তবে যেহেতু সংবাদমাধ্যমে দেখলাম মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশ করা হয়নি, আমি আর আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে যাইনি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. হাবিবুর রহমান খান, সামাজিক অস্বস্তি ও ভীতির কথা চিন্তা করে বিষয়টি তখন হয়তো সেভাবে প্রকাশ পায়নি। তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন, এখন সুস্থ আছেন।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের কেউ আক্রান্ত হলে গ্রেড ভেদে পাবেন ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। যদি সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তাহলে ক্ষতিপূরণ বাবদ এর পাঁচগুণ অর্থ পাবেন। এ বিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।









Leave a reply