ঘূর্ণিঝড় ও করোনা মোকাবেলা নিয়ে দ্য গার্ডিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর কলাম

|

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি।

একইসাথে ঘূর্ণিঝড় ও করোনাভাইরাস মোকাবেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বিখ্যাত গার্ডিয়ান পত্রিকায় কলাম লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘ঘূর্ণিঝড় ও করোনাভাইরাস মোকাবেলা: কীভাবে আমরা মহামারির সময় মিলিয়নের বেশি জনগণকে সরিয়ে নিয়েছিলাম?’ (Fighting cyclones and coronavirus: how we evacuated millions during a pandemic) শীর্ষক কলামটিতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, মে মাসে যখন ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় আম্পান সৃষ্টি হয় তখন নষ্ট করার মতো কোনো সময় আমাদের হাতে ছিল না। কিন্তু আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সামাজিক দূরত্বের কথা চিন্তা করে নির্মিত নয়। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়িয়ে কীভাবে ২.৪ মিলিয়ন মানুষকে সরিয়ে নেবো সেটি ছিল আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

বুধবার (৩ জুন) প্যাট্রিক ভারকুয়্যেনের সাথে লেখা যৌথ নিবন্ধটি গার্ডিয়ান পত্রিকার জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সেকশনে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত হয়েছে।

নিবন্ধে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, রাতারাতি এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নেয়ার ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। উপকূলীয় এলাকার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে উদাসীন ছিল। তারওপর করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কও ছিল।

এ পরিস্থিতিতে, আগের ৪ হাজার ১৭১ আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে আরও ১০ হাজার ৫০০ বাড়তি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করি আমরা। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে নামানো হয় ৭০ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী। বিতরণ করা হয় পর্যাপ্ত মাস্ক, পানি, সাবান ও স্যানিটাইজার। বিদেশি কাজের আদেশ বাতিল হওয়া গার্মেন্টস কারখানাগুলো দ্রুততার সাথে পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট তৈরির কাজে নেমে পড়ে।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে পূর্ব-সতর্কতা নেয়া, মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া, দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। মূলত এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই এই করোনাকালীন সময়েও সুপার সাইক্লোন আম্পানকে সফলতার সাথে মোকাবেলা করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ তার অভিজ্ঞতা অন্যদের জানাতে আগ্রহী উল্লেখ করে নিবন্ধে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ একইসাথে অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু বিষয়ক সমস্যা মোকাবেলা করছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিশ্বের অন্য দেশের সাফল্য থেকে শিখতে পারি এবং পরস্পরকে সমর্থন দিতে পারি। এর ফলে আমরা আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হয়ে উঠবো।









Leave a reply