করোনা আক্রান্তদের পাশে শাহাদাতের ‘প্লাজমা ব্যাংক’

|

করোনাভাইরাস জয় করে অনেকেই ফিরেছেন স্বাভাবিক জীবনে। কেউ কেউ আবার আক্রান্তদের সহায়তায় নিচ্ছেন নানা উদ্যোগ। তেমনি একটি উদ্যোগ ‘প্লাজমা ব্যাংক’। এর নেপথ্যে আছেন দেশের শীর্ষ সংবাদভিত্তিক চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার ও সংবাদ উপস্থাপক শাহাদাত হোসেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে প্রথমদিকে করোনায় আক্রান্ত হওয়াদের একজন ছিলেন শাহাদাত হোসেন। তার পুরো পরিবারের ওপরই থাবা বসিয়েছিল করোনাভাইরাস। বাদ যায়নি সাড়ে তিনমাস বয়সী কন্যা নামিরাহ-ও। এ দুঃসময়ে পাশে পেয়েছিলেন প্রতিষ্ঠান ও সহকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা। রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাসায় চিকিৎসা শেষে গত ১২ মে তিনি ও তার পরিবারে সবাই করোনা মুক্ত হয়েছেন।

শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নানা প্রতিকূলতা দেখেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় চোখের সামনেই করোনা রোগীদের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে দেখেছেন। সেখান থেকে শপথ নেন, সুস্থ হলে আক্রান্তদের জন্য কিছু করার। তিনি এখন করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্লাজমা সংগ্রহের অন্যতম উদ্যোক্তা।

বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ্যতার জন্য প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হওয়ার পর অনেকে শাহাদাত হোসেন ও তার পরিবারের সঙ্গে প্লাজমা দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে যোগাযোগ করতে থাকেন। সাড়া দিতে সময় নেননি, গত ১ জুন সস্ত্রীক প্লাজমা দান করেন তিনি।

চাহিদার তুলনায় প্লাজমার সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল দেখে তিনি নিজেই একটি ফ্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। যেটি প্লাজমা গ্রহীতা এবং ডোনার খুঁজে পেতে মানুষকে সহায়তা করবে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তৈরি করেন ‘প্লাজমা ব্যাংক’ নামের গ্রুপ। অল্পদিনেই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজার পেরিয়ে যায়। গ্রুপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন করোনা রোগীকে প্লাজমা সরবরাহ করতে পেরেছেন শাহাদাত হোসেন।

শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রথমে আমি ও আমার স্ত্রী প্লাজমা দান করি। আমার শ্বশুরের বয়স বেশি হওয়ার ও তার ডায়াবেটিস থাকায় তিনি প্লাজমা দিতে পারেননি। পরে গ্রুপটি খুলে ব্যাপক সাড়া পেলেও সে তুলনায় প্লাজমা ডোনার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এবং অনেকেই দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তার মতে, অনেকে প্লাজমা দান সম্পর্কে কিছুই জানেন না কিংবা সচেতন নন। প্লাজমা দানে দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও ধারণা অনেকের, যা একেবারেই ভুল। তাছাড়া অনেকে পরিবারের জন্য প্লাজমা প্রিজার্ভ করে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে এটি পাওয়া একেবারে কঠিন হয়ে পড়ছিল। এছাড়া, দেশে করোনা রোগী হু হু করে বাড়তে থাকলেও এর বড় অংশটিই প্লাজমা দানে যোগ্য নয় বলে জানান তিনি। কারণ অনেকে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে তিনি প্লাজমা দিতে পারেন না।

একটি অনলাইন পোর্টালকে সাথে নিয়ে ‘প্লাজমা ব্যাংকের’ ডাটাবেজ তৈরি করেন শাহাদাত হোসেন।

এই ডাটাবেজে প্লাজমা ডোনাররা তাদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করে প্লাজমা দানের জন্য নিবন্ধন করতে পারেন। যেখানে প্লাজমা ডোনার বা গ্রহণকারী করোনা রোগীর নাম, নিকট আত্মীয়ের নাম, যোগাযোগের নাম্বার, ইমেইল, রক্তের গ্রুপ, বয়স, গ্রহণকারী কোনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন- এসব পূর্ণ করে ডাটা সংরক্ষণ রাখা হয়।

তবে, এমন কাজেরও বাগড়া দেয়ার জন্য আছে কিছু অসাধু মানুষ। তাদের সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শাহাদাত। বলেছেন, কেউ মোবাইলে প্লাজমা দেয়ার কথা বলে টাকা চাইলে কোনোভাবেই টাকা দেয়া ঠিক হবে না।

শাহাদাতের প্রত্যাশা এমন নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে অদৃশ্য এই শত্রুকে হারিয়ে দেবে বাংলাদেশ।









Leave a reply