কারাগারে খালেদা জিয়া

|

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে পুরাতন কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টারে কারাবাস করবেন বিএনপি নেত্রী।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ মজুমদার ও সানাউল্লাহ মিয়া তাকে কারাগারে পৌঁছে দেন। এরপর মাসুদ মজুমদার সাংবাদিকদেরকে বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে নিশ্চিত করেছেন।

এসময় তিনি জানান, কারাগারে প্রবেশের আগে বিএনপি নেত্রী দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন।

এর আগে আজ দুপুর আড়াইটায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

একই সাথে খালেদা জিয়াকে ২ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ মামলায় তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রায়ের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ২ বছরের বেশি সাজা হওয়ায় নির্বাচন করতে পারবেন না খালেদা জিয়া। তবে আপিল প্রক্রিয়া চলতে থাকলে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।

দুর্নীতির চক্র থেকে বের হওয়ার জন্য এই রায় মাইলফলক বলে উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের মামলা। দুদক করেছে। সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করে রায় হয়েছে। অপরাধ করলে বিচার হয় এটা প্রমাণিত হলো।

রায়ে ঢাকার বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আকতারুজ্জামান বলেন, এ মামলায় আরও বেশি শাস্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার সামাজিক অবস্থান ও বয়স বিবেচনা করে বর্তমান দণ্ড দেয়া হয়েছে।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে রায় শুনতে বকশীবাজারে আদালতে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর আগে ১১টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে বের হন খালেদা জিয়া। বকশীবাজার মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন মামলারর আসামিরা। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

২৩৬ কার্যদিবস ৩২ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, ২৮ কার্যদিবস আত্মপক্ষ সমর্থন ও ১৬ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

খালেদা জিয়াসহ মামলার আসামি ৬ জন। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সলিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দির সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলা করে দুদক। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ।

১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি প্রাথমিক সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ৩ বার আটক হন। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি গ্রেফতার হন। সংসদ ভবন এলাকার বিশেষ কারাগারে তাকে রাখা হয়। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশে মুক্ত হন খালেদা জিয়া।









Leave a reply