হিন্দু বিধবা সম্পত্তি ও কিছু বিভ্রান্তি

|

ইব্রাহীম খলিল:

হিন্দু দায়ভাগ আইনের বিধান অনুসারে পুত্র, পুত্রের পুত্র এবং প্রোপুত্রের অনুপস্থিতিতে বিধবা মৃত স্বামীর কৃষি অকৃষিসহ সকল সম্পত্তির জীবন স্বত্বে একক মালিক হন। একে বিধবার সম্পত্তি বলে। বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুরা উত্তরাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে দায়ভাগ বিধানাবলী অনুসরণ করেন।হিন্দু বিধবা জীবন স্বত্বে এই সম্পত্তি ভোগ দখল করেন, কিন্তু সাধারণত সম্পত্তি হস্তান্তরের অধিকারী হন না। তবে বৈধ আইনগত প্রয়োজনে তিনি এই সম্পত্তি হস্তান্তর করবার অধিকারী হন। যখন পুত্র, পুত্রের পুত্র এবং প্রোপুত্র থাকে তখন দায়ভাগ আইন অনুসারে বিধবা মৃত স্বামীর সম্পত্তি প্রাপ্ত হতেন না। ১৯৩৭ সালের The Hindu Women’s Rights to Property Act অনুযায়ী হিন্দু বিধবাদের সম্পত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কৃষি-অকৃষি জমির কোন পার্থক্য নাই। প্রচলিত হিন্দু আইন অনুযায়ী বিধবারা স্বামীর সকল সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার সূত্রে অধিকার লাভ করেন।

কাজেই, মহামান্য আদালত বুধবার এই সংক্রান্ত একটি রায়ে আসলে কোন বিষয়ে আলোকপাত করেছেন সেটা রায় প্রকাশ হওয়ার আগে বোঝা যাবে না। এখানে নতুন কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেতায়েত কম। রায় প্রকাশিত হওয়ার পর এটা পর্যবেক্ষণ করেই এই ব্যাপারে মত প্রকাশ করা সমীচীন।মামলাটিতে বিধবা পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন যে, 45CWN এ প্রকাশিত ফেডারেল কোর্টের একটি রায়ের কারণে বাংলাদেশের হিন্দু বিধবারা কৃষি ভূমিতে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হতেন। কিন্তু উক্ত রায়ের গর্ভে বলা আছে… “do not operate to regulate succession to agricultural land in governor’s provinces…” অর্থাৎ এটি প্রতীয়মান হয় শুধু গভর্নর শাসিত অঞ্চলের জন্য ফেডারেল কোর্টের রায় কার্যকর ছিল। যা তৎকালীন বাংলার জন্য প্রযোজ্য নয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশে শুধু ১৯৩৭ The Hindu Women’s Rights to Property Act গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে 45CWN এ প্রকাশিত ফেডারেল কোর্টের রায় এখানে প্রযোজ্য নয়। সুতরাং আইনে ইতিমধ্যে যে বিষয়টির মীমাংসা দেয়া আছে সেই বিষয়ে রায়টি “ঐতিহাসিক” আখ্যা দেয়ার তেমন সুযোগ নেই।

লেখক: আদালত প্রতিবেদক, যমুনা টেলিভিশন।









Leave a reply