জঙ্গিবন্দি ছিনিয়ে নেয়ার হুমকি; দেশের সব কারাগারে সতর্কতা

|

কারাগার থেকে জঙ্গিবন্দি ছিনিয়ে নেয়ার হুমকির প্রেক্ষিতে দেশের সকল কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রোববার কারা মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তফা কামাল পাশা স্বাক্ষরিত এক অতীব জরুরি পত্রের মাধ্যমে এ সকল নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কিছু দুষ্কৃতিকারী ব্যক্তি কর্তৃক কারাগার থেকে কিছু জঙ্গিবন্দি ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। সেইসাথে টেলিফোন কলও করা হয়েছে। কারাগারে একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান হওয়ায় দুষ্কৃতকারীদের কার্যকলাপ নস্যাৎ করে বন্দি পলায়নসহ যেকোনাে দুর্ঘটনা কঠোর হস্তে দমন কারা কর্মকর্তাদের অন্যতম দায়িত্ব।

সম্প্রতি কিছু কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথিল্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে পত্রে বলা হয়েছে, দেশের সকল কারা কর্তৃপক্ষের যেকোনাে অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরােধে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। এমতাবস্থায় কারাগারে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো-

১. দুষ্কৃতিকারীদের সম্ভাব্য তৎপরতা এবং বন্দি ছিনিয়ে নেয়া বা যেকোনাে ঘটনা রোধে কারাগার নিরাপত্তার জন্য জেলারের নেতৃত্বে ১ জন ডেপুটি জেলার, ১ জন প্রধান কারারক্ষী ও ৫ কারারক্ষীর সমন্বয়ে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধে বা দাঙ্গা দমনে সদা প্রস্তুত থাকবে। এক্ষেত্রে পূর্বে শাস্তিপ্রাপ্ত হননি এমন সদস্যদের দিয়ে ফোর্স গঠন করতে হবে।

২. সকল কারা কর্মকর্তা/কর্মচারীকে সবার সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

৩. কারাগারের আরপি গেটে আবশ্যিকভাবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিধান ও হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারসহ যথাযথ তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

৪. প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে আগতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

৫. প্রয়োজনীয় সংখ্যক সশস্ত্র সেন্ট্রি ডিউটির ব্যবস্থা করতে হবে।

৬. অস্ত্র ও অস্ত্রাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. প্রয়ােজনীয় মূহুর্তে অস্ত্রাগার হতে দ্রুত অস্ত্র ও গােলাবারুদ সংগ্রহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় মহড়া পরিচালনা করতে হবে।

৮. কারা প্রাঙ্গনে বহিরাগত যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।

৯. কারাগারে নিষিদ্ধ কোন পণ্য প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।

১০. আরপি গেটসহ প্রধান গেটে সিসিটিভি মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে।

১১. কারাগারে পেরিমিটার ওয়াল ও সীমানা প্রাচীর সুরক্ষিত রাখতে হবে।

১২. কারা এলাকায় ও ব্যারাকে সকল কারারক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিন্ত করতে হবে।

১৩. কারাগারে এলার্ম ব্যবস্থা পরীক্ষা করে প্রস্তুত রাখতে হবে।

১৪. কারাগারে কর্মরত পি আই উ সদস্যবৃন্দকে অধিকতর দায়িত্বশীল হতে হবে।

১৫. কারাগারে আটক জঙ্গি, আইএস, শীর্ষ সন্ত্রাসী, বিডিআর ও বিভিন্ন সংবেদনশীল মামলায় আটক বন্দিদের চলাচল ও গতিবিধি কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে।

১৬. যে সকল কারাগারে এ ধরনের জেএমবি/জঙ্গি বন্দি আটক রয়েছে সেসব এলাকায় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করাসহ তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে।

১৭. কারাগারে নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্য সংশ্লিষ্ট নানা কর্তৃপক্ষকে যথাসময়ে অবহিত করতে হবে।

১৮. সর্বোপরি, কারাগারের অভ্যন্তরের ন্যায় বহির্বিভাগেও নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতে হবে।

উপরােল্লিখিত নির্দেশনার বিষয়ে কোনো কারা কর্মকর্তা/কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে ন্যূনতম ব্যাতায় বা শৈথিল্যর প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্প্রতি লালমনিরহাট কারাগারে জঙ্গিবন্দিদের ছিনিয়ে নেয়ার হুমকি দিয়ে উড়োচিঠি দেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্কতা নেয়া হচ্ছে।এর আগে, ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন সদস্যকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। এরপর ২০১৭ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী সরকারি কলেজ গেট এলাকায় দুটি প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে জঙ্গি মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় তার অনুসারীরা।

 









Leave a reply