ফাউচি থাকবে, ট্রাম্পকেই বিদায় করবো: বাইডেন

|

করোনা মহামারির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ঘুরেফিরেই দেশটির শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচির নাম। অতিসম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আভাস দিয়েছিলেন যে, পুনর্নির্বাচিত হলে অ্যান্থনি ফাউচিকে বরখাস্ত করবেন তিনি। এর পাল্টা জবাব দিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। বললেন, ফাউচি হোয়াইট হাউসেই থাকবে। ট্রাম্পকেই বিদায় করে দিবেন তিনি। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের।

রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে নির্বাচনী প্রচারে বক্তব্য দেয়ার সময় জো বাইডেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার কাছে ভালো বুদ্ধি আছে। আমাকে নির্বাচিত করুন। ফাউচিকে রেখে আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিদায় করবো। 

এর আগে এক টুইটে জো বাইডেন বলেন, ফাউচির মতো বিশেষজ্ঞের কথা ‍যিনি শুনবেন, তার মতো প্রেসিডেন্ট আমেরিকায় দরকার।  ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসভায় তার সমর্থকদের অধিকাংশই মাস্ক না পরে আসেন। অথচ এখনও করোনা মহামারি চলছে।  

গত ১ নভেম্বর ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে নির্বাচিত হলে শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ফাউচিকে ছেঁটে ফেলার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ফাউচি একজন দারুণ মানুষ, তবে উনি অনেক ভুল করেছেন। ফাউচি হোয়াইট হাউসে থাকবেন না। সেই সময় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ফাউচিকে বরখাস্ত করার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে।

ফাউসিকে বরখাস্ত করতে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া হুমকির কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। স্থানীয় সময় সোমবার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় বাইডেনের প্রচারসভায় যোগ দেন ওবামা। তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশকে কোভিড সংক্রমণের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। 

এর আগে, শনিবার ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাউচি করোনা মোকাবেলায় ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সিরিয়াস ছিল না।

করোনা মহামারির শুরুর দিকে ট্রাম্প ও ফাউচি সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছেন বলে মনে হলেও ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। ফাউচি এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর প্রেসিডেন্টের হয়ে ব্রিফ করেন না। তার জায়গায় এখন ডা. স্কট অ্যাটলাস ব্রিফ করেন।

নির্বাচনী প্রচারণা থেকে ব্যাপক হারে করোনা বিস্তারের আশঙ্কা জানিয়েছেন তিনি। প্রধান দুই প্রার্থীকে নিয়েও মন্তব্য করেন ফাউচি। তিনি বলেন, জো বাইডেন করোনাভাইরাসকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা হিসেবে দেখলেও পুরোপুরি ভিন্ন চিন্তাধারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ফাউচির দাবি, কেবল অর্থনৈতিক দিকটিই বিবেচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
 
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৪৩ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬১ লাখ ৭১ হাজার ৪০২ জন। এই সংক্রমণ পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ভোট দিতে যাবেন। তবে মহামারির কারণে দেশটির বেশিরভাগ মানুষ এবার আগাম ভোট দিয়েছেন।









Leave a reply