মিয়ানমারের নির্বাচন: রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পথ খুলবে কি?

|

আহমেদ রেজা:

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন তো গেলো। এবার প্রসঙ্গ মিয়ানমারের নির্বাচন। ৫০ বছরের সামরিক শাসন মুক্ত হবার পরে আজ (৮ নভেম্বর) দেশটিতে দ্বিতীয় নির্বাচন।

নির্বাচন কমিশনের তালিকায় ৯৫টি দলের মধ্যে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি এবং ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখ হলেও রোহিঙ্গারা পাচ্ছেন না ভোটাধিকার। ভোটদানে বঞ্চিত হচ্ছে ২৬ লক্ষ জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের পথ খুঁজতে পুরো বিশ্বই এখন তাকিয়ে এই নির্বাচনের দিকে। ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় যাবেন অং সান সুচি ও তার দল। সেটিই যদি হয় তাহলে রোহিঙ্গা সংকটের ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে বাংলাদেশের কপালে।

মানবতার নেত্রী খ্যাত অং সান সুচি, গণহত্যার সাথে জড়িত দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন। এমনকি সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে হেগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) কথা বলেন তিনি।

গোটা বিশ্বের কাছে এই কারণে সমালোচিত হলেও সুচি জাতিগত বার্মা সংখ্যাগরিষ্ঠদের কাছে জনপ্রিয়। ফলে, ফের ক্ষমতায় আসা মোটামুটি নিশ্চিত।

এই গণহত্যাকে জাতিসংঘ জাতি-নিধন হিসেবে বলছে। সেই সাথে চেষ্টা করছে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সহায়তা বাড়াতে। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট সমাধান কিংবা রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সহায়তায় বিশ্ব নেতাদের আগ্রহ নেই তেমন। সবশেষ ডোনার কনফারেন্সে সেটা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ চায় সংকটের নিশ্চিত সমাধান। এজন্য কূটনৈতিক পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর কথা বলা হলেও মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের আগে কিছুই সম্ভব নয়।

তাই এই নির্বাচনের পর মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের নীতি কি হবে তাই বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা সমাধানের পথে হাটবে মিয়ানমার নাকি নতুন বৈরিতা তৈরির নীতি সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

লেখক: সাংবাদিক।









Leave a reply