নরসিংদীতে উচ্ছেদের ২০ দিন পর ফের অবৈধ দখল

|

ষ্টাফ রিপোর্টার:

নরসিংদীতে রেলওয়ের জায়গা দখল করে তৈরি করা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নরসিংদী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে বাসা, বাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করেছে প্রভাবশালীরা। নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুরু করে সাবেক রেলসড়কের বাসাইল শাপলা চত্বর পর্যন্ত দুই হাজার ছোট বড় অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

অভিযানে নরসিংদী রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে শহরের শাপলা চত্বর পর্যন্ত প্রায় ১২০০ অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের বিভাগীয় ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু অভিযানের ২০ দিন পরেই নরসিংদী পৌরসভার শাপলা চত্বর এলাকায় অবৈধ দোকান-পাট নির্মাণ শুরু হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শহরের শাপলা চত্বর এলাকার মাইনউদ্দীন প্রধান নামে এক ব্যক্তি ২০০৯ সাল থেকে শাপলা চত্বর এলাকায় রেলওয়ের জমি দখল করে প্রায় ৬ শতাধিক দোকান-পাট নির্মাণ করে গড়ে তোলেন বাজার। অগ্রীম টাকা বাবদ ছোট বড় দোকান প্রতি নেন ৪/৫ লাখ টাকা আর মাসিক ভাড়া বাবদ আদায় করেন ২৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, এভাবেই রেলের জমি দখল করে এই ব্যক্তি বছরের পর বছর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কেটি টাকা। শাপলা চত্বরে নির্মাণ করেছেন ৬ তলা ও ৪ তলা ভবন। তার ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অবৈধ দখলদার মাইনউদ্দীন প্রধান বলেন, আমি ১৯৯২ সালে এই রেলের জমি লিজ নিয়ে এখানে দোকানপাট নির্মাণ করি। পরে হঠাৎ করে রেলওয়ে দোকানপাট ভেঙ্গে দিলে আমি আবারও কমলাপুর রেলওয়ে থেকে লিজ নবায়ন করে নতুন করে দোকান পাট নির্মাণ করছি।

এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ফারহানা কাউনাইন বলেন, রেলওয়ের সম্পত্বি রেলওয়ে সংরক্ষণ বা তত্বাবধান করে এখানে আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের অভিযানের সময় শুধু আমরা ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে সহযোগিতা করি। এ বিষয়ে আমি রেলওয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেব তারা যেন তাদের অবৈধ সম্পত্বিগুলো পুনরায় সংরক্ষণ করে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (পূর্ব) কংকন চাকমা বলেন, উচ্ছেদ অভিযান রেলওয়ের চলমান প্রক্রিয়া। ভেঙ্গে চলে আসার পর অবৈধ দখলদাররা যদি আবারও নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্ঠা করে, তাহলে আমরা আবারও অভিযান পরিচালনা করে পুনরায় ভেঙ্গে দেব। আমি বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তাকে(ঢাকা) এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলবো।









Leave a reply