আশুগঞ্জে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক

|

নমুনা না দিয়েই এক যুবকের করোনা পজেটিভ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে কোহিনুর খানম নিতু (৩০) কে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্বামী জুয়েল মিয়া (৩২)। বৃহস্পতিবার ভোরে আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা এলাকার আনু সর্দারের বাড়ির পাশের আলগা বাড়ির আবু চান মিয়া ঘর থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কোহিনুর একই এলাকার আবুল হোসেন মিয়ার মেয়ে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জুয়েল মিয়া পলাতক রয়েছে।

এই ঘটনায় জুয়েলের পরিবারের পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- জুয়েলের বাবা আবু চান মিয়া (৬৮), মা রহিমা বেগম (৫৫), বড় ভাইয়ের স্ত্রী তানিয়া বেগম (২৯), ছোট ভাই কামরুল ইসলাম (২৮) ও কামরুলের স্ত্রী আর্জিনা বেগম (২৪)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে আদালতে গিয়ে বিয়ে করেন কোহিনুর এবং জুয়েল মিয়া। দু’জনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর থেকে তাদের মাঝে কখনো সম্পর্কের অবনতি হয়নি। বিয়ের পর উভয়ের পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নেয়। তবে জুয়েল প্রতিদিন ইয়াবা সেবন করতেন। এরই মধ্যে জুয়েল একটি ওয়ার্কসপ খুলে ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন। ওয়ার্কসপে নতুন করে বিনিয়োগ করার জন্য দু’মাস আগে কোহিনুরের কাছে দু’লাখ টাকা দাবি করে জুয়েল। তবে কোহিনুর টাকা দিতে অপারগতা জানায়। কিন্তু পরে এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে আর কোন সমস্যা হয়নি।

বুধবার সন্ধ্যায় কোহিনুর পাশেই বাবার বাড়িতে গিয়ে নিজ পরিবারের সাথে দেখা করে আসেন। তখনও তাদের কোন সমস্যার কথা জানায়নি কোহিনুর। কিন্তু গভীর রাতে জুয়েল বটি দিয়ে কোহিনুরকে কুপিয়ে হত্যা করে কম্বল দিয়ে লাশ ঢেকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে রাতেই পরিবারের লোকজন দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বটি ও জুয়েলের পরিবারের পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

এই ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শ্রীবাস চন্দ্র বিশ্বাস জানান, হত্যার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কোহিনুরের স্বামী জুয়েলকে আটক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।









Leave a reply