বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ চ্যাম্পিয়ন খুলনা

|

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ ক্রিকেটে চট্টগ্রামকে ৫ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জেমকন খুলনা। মিরপুরে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রিয়াদের অপরাজিত ৭০ রানে ভর করে ১৫৫ রান তোলে তারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে খুলনার বোলারদের আগুন ঝরা বোলিংয়ে ১৫০ রানে চট্টগ্রামকে থামিয়ে দিয়ে ৫ রানের জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে মাশরাফী রিয়াদদের খুলনা।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের খুলনার দেয়া ১৫৬ রানের জয়ের টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমে শুরুতেই সৌম্য ও মিঠুনকে হারিয়ে বেশ চাপে পরে চট্টগ্রাম। শুবাগত হোমের করা চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে সহজ ক্যাচ চেড়ে খুলনার দর্শকদের হতাশ করেছিলো ইমরুল কায়েস। কিন্তু সেই হতাশাকে পরের বলেই আনন্দে পরিণত করেন শুভাগত হোম।

ওভারের তৃতীয় বলে পরিষ্কার বোল্ড আউট করে সৌম্যকে বাই বাই জানান শুবাগত। এর পরের ওভারেই চট্টগ্রাম শিবিরে আঘাত হানেন আল আমিন হোসেন। এই পেসারের গতির সামনে পরাস্ত হন চট্টগ্রামের ক্যাপ্টেন মিঠুন। পরিষ্কার এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মাত্র ৭ রানে।

তবে একপ্রান্তে আগলে রাখেন এই টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটার লিটন দাস। তবে তার স্থায়িত্ব অবশ্য খুব বেশিক্ষণ হতে দেয়নি প্রতিপক্ষের বোলার শহিদুল ইসলাম। অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে দারুণ এক আন্ডারাম ফিল্ডিংয়ে লিটনকে ফেরত পাঠান বোলার শহিদুল। আর এই আউটের মধ্য দিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় মাশরাফীর লিটন ও সৌম্য হটাও তত্ত্ব।

এর পরে সৈকত আলীকে সাথে জুটি বাধেন শামসুর রহমান। খুলনার বোলারদের শাসন করতেই এগ্রেসিভ ক্রিকেট খেলার মানসিকতা দেখা দেখা গেলেও হঠাৎ করেই মিরপুরের উইকেটের আচরণ পাল্টে যায়। স্লো পিচে মাহমুদুল হাসানের বলে বড় শর্ট খেলতে গিয়ে ধরা পরেন শুবাগত হোমের হাতে। মাঠ ছাড়ার আগে শামসুর রহমানের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ২৩ রান।

জয়ের মিশনে উইকেটে থেকে রান সংগ্রহের চেষ্টায় মোসাদ্দেকের সাথে জুটি বাধেন সৈকত আলী। কিছুটা স্লো হয়ে যাওয়া উইকেটে দেখে শুরুতেই স্কোর বোর্ডকে সচল রাখেন এই দুই ব্যাটার। ১৬ দশমিক ৪ বলে সৈকতের সহজ ক্যাচ ছেড়ে আল আমিন হোসেনকে হতাশায় ডুবায় খুলনার উইকেট কিপার।

শেষ ওভারে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিলো ১৬ রান কিন্তু এই বাধা টপকাতে পারেনি পুরো টুর্নামেন্ট দারুণ খেলা লিটন সৌম্যরা। শেষ ওভারে রিয়াদ ভরসা করেছিলো ইয়াং পেসার শহিদুলের ওপর সেই ভরসার প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষের দুই সেট ব্যাটসম্যান সৈকত ও মোসাদ্দেককে হটিয়ে খুলনাকে চ্যাম্পিয়ন করেন শহিদুল ইসলাম।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই জহুরুল ইসলামের উইকেট হারায় খুলনা। পরের ওভারে ইমরুলের উইকেট তুলে নেন নাহিদুল। এরপর জাকির হোসেন ২৫ আর আরিফুল হক করেন ২১। তবে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অপরাজিত ৭০ রানে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় খুলনা। দুই ছক্কা আর ৮ চারে ৪৮ বলে এই রান করেন রিয়াদ। ৭ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে খুলনা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জেমকন খুলনা: ১৫৫/৭ (২০ ওভার)
(জাকির ২৫, ইমরুল ৮, আরিফুল ২১, মাহমুদউল্লাহ ৭০*, শুভাগত ১৫, শহীদুল ১*; নাহিদুল ২/১৯, শরিফুল ২/৩৩, মোসাদ্দেক ১/২০, মোস্তাফিজ ১/২৪)।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম: ১৫০/৬ (২০ ওভার)
(লিটন ২৩, সৌম্য ১২, মিথুন ৭, সৈকত আলী ৫৩, শামসুর ২৩, মোসাদ্দেক ১৯, নাহিদুল ৬*, নাদিফ ১*; শুভাগত ১/৮, আল-আমিন হোসেন ১/১৯, হাসান মাহমুদ ১/৩০, শহীদুল ২/৩৩)।
ফলাফল: ৫ রানে জয়ী জেমকন খুলনা।

ম্যাচসেরা: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (জেমকন খুলনা)।









Leave a reply