জিনাত বরকতুল্লাহ লাইফ সাপোর্টে

|

নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী জিনাত বরকতুল্লাহ গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্চাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে।

জিনাত বরকতুল্লাহর মেয়ে অভিনেত্রী বিজরী বরকতুল্লাহ এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করে লিখেছেন, মা আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন, তার অবস্থা গুরুতর।

তিনি জানান, গত ২২ ডিসেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তার মাকে। এখন লাইফসাপোর্টে নেয়া হয়েছে। তিনি মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

প্রসঙ্গত, জিনাত বরকতুল্লাহর স্বামী প্রযোজক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ গত ৩ আগস্ট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তখন জিনাতও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে এখন তিনি এই করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেন।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চা চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জিনাত বরকতুল্লাহ। সত্তরের দশক থেকে নৃত্যশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ভরতনাট্যম, কত্থক, মণিপুরী- উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় নৃত্যের তিন ধারায় তালিম নিলেও জিনাত বরকতুল্লাহ পরে লোকনৃত্যকেই তার জীবনের পাথেয় করে নেন। দুই মেয়ে বিজরী বরকতু্ল্লাহ ও কাজরী বরকতুল্লাহ তখন বেশ ছোট ছিলেন বলে শাস্ত্রীয় নৃত্যে সময় দেয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে জিনাত বরকতুল্লাহ যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পারফর্মিং আর্টস একাডেমিতে। পরে তিনি শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত প্রডাকশন বিভাগের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তিনি ২৭ বছর কর্মরত ছিলেন।

১৯৮০ সালে জিনাত বরকতুল্লাহ বিটিভির নাটক ‘মারিয়া আমার মারিয়া’ দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন। তিনি ‘ঘরে বাইরে’, ‘অস্থায়ী নিবাস’, ‘বড় বাড়ি’, ‘কথা বলা ময়না’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় টিভি নাটকে অভিনয় করেন।

জিনাত বরকতুল্লাহ নৃত্যশিল্পে অবদানের জন্য ২০১৮ সালে শিল্পকলা একাডেমি পদক পেয়েছেন।









Leave a reply