পাওনা টাকার সালিশে বিড়ি ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

|

স্টাফ রিপোর্টার:

রংপুরের হারাগাছে পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে সালিশে বৈঠকেই পাওনাদার ও তার লোকজনের হাতে নির্মমভাবে খুন হলেন আব্দুল হালিম সরকার (৫৮) নামের এক বিড়ির মালিক। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।ঘটনাস্থল লালমনিরহাট হওয়ায় সদর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা হলেও গ্রেফতার হয়নি কেউ।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) ইমরান জানান, বিগত দেড় বছর ধরে হারাগাছ থানার সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট সদর উপজেলার চর মিলনবাজার এলাকার মজিবর রহমানে কাছে তামাক বিক্রির ১৩ লাখ টাকা পাওনা ছিল হারাগাছ পৌর এলাকার দর্জিপাড়ার চান মিয়ার। পাওনা টাকার বিয়ে গত দুই মাস আগে সালিশ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ৫ জানুয়ারি টাকা দেয়ার লিখিত অঙ্গিকার করেছিলেন মজিবুর। মঙ্গলবার রাত প্রতিশ্রুতির কাগজ নিয়ে পাওনাদার চান মিয়া স্থানীয় পাইকারটারী গ্রামের মুরব্বী তামাক ব্যবসায়ী ও মালা বিড়ি ফ্যাক্টরির মালিক আব্দুল হালিম সরকার ও মোনায়েম হাজীকে সঙ্গে নিয়ে টাংরীর বাজারে যান। সেখান থেকে মজিবর টাকা দেয়ার জন্য লালমনিরহাট সদর উপজেলার চর মিলন বাজার এলাকায় নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। বাড়িতে ডেকে নিয়ে টাকা দেয়া নিয়ে মজিবরের লোকজনের সাথে হট্টগোল বাঁধে। এরমধ্যেই মজিবুর ও আগে থেকেই ভাড়া করে আনা ফজলুল হক এলফাট, রতন মিয়া, ফজু মিয়াসহ ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী চান মিয়ার সাথে যাওয়া মালা বিড়ির মালিক আব্দুল হালিম সরকারকে লাঠিসোটা ও রড দিয়ে বেধড়ক পিটাতে থাকেন। পরে তাকে মৃত নিশ্চিত করে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করলে পকিহাটা ব্রিজের কাছে তিনি মারা যান। পরে লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় ময়না তদন্তের জন্য।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল লালমনিরহাট হওয়ায় সদর উপজেলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতদের নামে একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

নিহতের ছেলে মোহন মিয়ার অভিযোগ, মজিবরের বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসেছিল। বিরোধ মেটাতে সেখানে আমার বাবাও ছিলেন। বৈঠকে আমার বাবার তোলা একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে হট্টগোল শুরু হলে সন্ত্রাসী মজিবর ও ফজলুসহ অন্যান্যরা আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শী টাংরির বাজার এলাকার আব্দুর রশিদ জানায়, মঙ্গলবার রাতে ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম ও চানসহ তিনজন আমার দোকানে চা খেতে বসে। এসময় মজিবর ও তার লোকজন এসে প্রথমে চান ও আব্দুল হালিমকে মারপিট করে। পরে তাদেরকে জোর করে ধরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসী মজিবর, ফজলু, ফজু ও এলফাটসহ আরও অনেকে। তিনি বলেন, মজিবর ফজলু এলফাট এই এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও বালু সিন্ডিকেট ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা মিলন বাজার ও হারাগাছ চরাঞ্চলে বালু উত্তোলন ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বলেও জানান ওই এলাকার শফিকুল।

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ আলম জানান, পাওনা টাকার বিরোধের জের ধরে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বুধবার ৮ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে । এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার দুপুরে ওই এলাকায় মানববন্ধন হয়েছে।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply