কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব: মির্জাগঞ্জ ও গলাচিপায় ছাত্রলীগের বিক্ষোভ-ভাঙচুর, বঙ্গবন্ধুর ছবি পদদলিত

|

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুটি উপজেলা উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ওই কমিটিকে বিতর্কিত কমিটি দাবি করে পদ বঞ্চিতরা বিক্ষোভ মিছিল, দলীয় অফিস
ভাঙচুর, সংবাদ সম্মেলন এমনকি পুলিশের সাথে লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটেছে।

গত দুইদিন ধরে এ অবস্থা চললেও জেলা বা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা এ ব্যপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী জেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদন দেয়া হয় মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি।

অনানুষ্ঠানিক এই কমিটি ঘোষণার পরপর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পদবঞ্চিতরা। নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বুধবার উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে বিক্ষুব্ধরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিক্ষুব্ধ ও পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

একতরফা এ কমিটি বাতিলের দাবিতে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচিও পালন করেছে বুধবার। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক নেতৃবৃন্দরা।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক পদবঞ্চিত মো. রাকিব মৃধা জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের যে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাতে অছাত্র, জামায়াত-বিএনপি অন্তর্ভুক্ত করে ত্যাগী সক্রিয় নেতাকর্মীদের বাদ দেয়া হয়েছে। তাই আমরা ওই অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেছি। কিন্তু পুলিশ অহেতুক আমাদের মিছিলে লাঠিচার্জ করে ১০ জনকে আহত করে।

এ প্রসঙ্গে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. শাহআলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন-আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

একই দিন ঘোষণা দেয়া গলাচিপা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিও। সেই কমিটি নিয়েও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিকে বিলুপ্ত করে রাতের আঁধারে হঠাৎ করে নতুন কমিটি দেয়ায় বিক্ষুব্ধ পদবঞ্চিতরা। পাল্টা-পাল্টি মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে গলাচিপা পৌর এলাকায়। কমিটির দ্বন্দ্ব নিয়ে বুধবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় দলীয় কার্যালয়ে প্রদর্শিত বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে পদদলিত করে বিক্ষুব্ধরা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্ভব্য ঘটনাস্থলগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সদ্য বিলুপ্ত গলাচিপা উপজেলা কমিটির সভাপতি শরিফ আহম্মেদ আশিব সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সদস্যরা অর্থের বিনিময়ে বিগত বৈধ কমিটি ভেঙ্গে অবৈধভাবে ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটিতে অনুপ্রবেশ করেছে। যা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী।

যদিও পদবঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাসান শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২০ বছর, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৮ বছর ছাত্রলীগের কমিটি নেই এবং গলাচিপা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এবং জেলা-উপজেলার জ্যেষ্ঠ দলীয় নেতাদের সাথে সমন্বয় করে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। একটি কুচক্রী মহলের আস্কারায় পদবঞ্চিতরা অপপ্রচার চালিয়ে ছাত্রলীগকে কলঙ্কিত করছে। যা সঠিক ও সত্য নয়।

ইউএইচ/









Leave a reply