বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘উৎসবের গুলিতে’ নারীর মৃত্যু

|

ভারতের পাঞ্জাব আর উত্তর প্রদেশে বিয়েবাড়িতে ফাঁকা গুলি না ছুঁড়লে আসর ঠিক জমে না। সামাজিক প্রতিপত্তি এবং প্রভাব দেখানোর জন্য গুলি ছোড়ার এই সংস্কৃতি অনেকদিনের। কিন্তু অনভিজ্ঞ হাতে বন্দুক ছোড়ায় দুর্ঘটনাও কম ঘটে না।

গত শনিবার পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরের অশোক খোলসা মেয়ের বিয়ের এক অনুষ্ঠানে নিজেরই রিভলবার বের করে আনন্দচিত্তে আকাশের দিকে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। দূর্ভাগ্যবশত একটি বুলেট পাশের বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা শশী অরোরা নামের এক যুবতির মাথায় লাগে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। পাঞ্জাব পুলিশ নিশ্চিত করেছে বুলেটটি অশোক খোলসার রিভালবারেরই।

সেদিন অবশ্য অশোকের চেয়েও মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন তার বন্ধু অশোক শেঠি। তিনি রীতিমতো রাইফেল বের করে শূণ্যে গুলি ছুড়ছিলেন। নিহতের পরিবার অশোক খোলসা ও শেঠি দুজনের নামেই মামলা করেছে। অশোক খোলসাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

পাঞ্জাব পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এসব অনুষ্ঠানে যারা গুলি চালান তারা অপেশাদার। নিশানা ভাল না হওয়ায় প্রায় প্রাণহানী ঘটে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে পাঞ্জাবেই একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে একজন অতিথি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান; গুরুতর আহত হন ৪ জন। এরকম অনুষ্ঠানে মদ্যপানেরও রেওয়াজ আছে। ২০১৬ সালেরই ডিসেম্বরে বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা ড্যান্সারকে গুলি করে মেরে ফেলেন মদ্যপ এক অতিথি। গত বছরের ডিসেম্বরে এরকম এক অনুষ্ঠানে নিহত হয় মাত্র ৮ বছর বয়সী এক শিশু।

উৎসবে ফাঁকা গুলির রেওয়াজ় শুধু ভারতে নয় মধ্যপ্রাচ্য আর বলকান অঞ্চলেও এই সংস্কৃতি রয়েছে। আফগানিস্তানেও আনন্দ আয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার হয়।









Leave a reply