বিজ্ঞাপন বিষয়ে ডিজিটাল দুনিয়াকে ইউনিলিভারের হুমকি

|

অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ক্ষতিকর বিভিন্ন ডিজিটাল কন্টেন্ট থেকে সমাজ ও শিশুদের সুরক্ষা দিতে না পারলে এ মাধ্যম থেকে সব রকমের বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা কেইথ উইড বলেন, “সমাজের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবে না এমন কোনো প্ল্যাটফর্মে ইউনিলিভার বিজ্ঞাপন দিতে চায় না।”

মিথ্যা সংবাদ ও ‘বিষাক্ত’ কটেন্টের যুগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে  আরও স্বচ্ছতা ও ভোক্তার আস্থা অর্জনে জন্য আহবান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “মিথ্যা খবর, বর্ণবাদ, যৌনতা, ঘৃণা সম্বলিত বার্তার মাধ্যমে সন্ত্রাসের বিস্তার, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ডিজিটাল গণমাধ্যমকে মনোযোগ দিতে হবে, এবং তা প্রতিরোধে কাজ করতে হবে।

গত বছর ফেসবুকে ডাভ সাবানের একটি বিজ্ঞাপনকে অনেকেই বর্ণবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও তাদের পড়তে হয়েছিল।

উইড বলেন, “দর্শকরা এ সব বিষয় দেখার আগে বিজ্ঞাপনদাতাদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে হবে, এবং এর আগে প্রকাশকদের এ ধরনের বিষয়গুলো প্রকাশ করা বন্ধ করতে হবে।”

তবে ইউনিলিভারের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা কোনো সুর্নিদিষ্ট কোনো ডিজিটাল মাধ্যমকে অভিযুক্ত করেননি।

পুরো বিশ্বের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজারের অর্ধেক দখল করে আছে গুগল ও ফেসবুক। এদিকে ইউলিভারের এ ঘোষণাকে সমর্থক জানিয়েছে, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন দুনিয়ার অন্যতম বড় অংশীদার ফেসবুক।

এক বিবৃতিতে ফেসবুক জানিয়েছে, ইউনিলিভারের এ অঙ্গীকারকে আমরা পুরোপুরি সমর্থন করি, এবং এ লক্ষ্যে আমরা তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।” তবে অপর ডিজিটাল মিডিয়া মোঘল গুগল এ বিষয়ে এখনও অবধি কোনো মন্তব্য করেনি।

ইউনিলিভার আরও বলছে, বিজ্ঞাপনে জেন্ডার বৈষম্য প্রতিরোধে আমরা অঙ্গিকারাবদ্ধ। যারা অধিকতর ভালো ডিজিটাল মাধ্যম তৈরি ও পরিচালনা করতে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করবো।

ভুয়া বিজ্ঞাপন কমাতে আইবিএম-এর সঙ্গে ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইউনিলিভার।

গেল বছরে বিপণন বাবদ ৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছিল ইউনিলিভার, এর এক তৃতীয়াংশ ব্যয় করা হয়েছিল ডিজিটাল মাধ্যমের বিজ্ঞাপন খাতে। গত পাঁচ বছরে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন খাতে কোম্পানিটি তাদের খরচের পরিমান দ্বিগুণ বাড়িয়েছে।

যমুনা অনলাইন: এফএইচ









Leave a reply