আদৌ ১০৬ বিলিয়ন ডলার জব্দ করতে পারবে সৌদি আরব ?

|

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আমির-ওমরাহ এবং ব্যবসায়ীসহ সৌদি রাজপরিবারের অনেক সদস্যকে গত নভেম্বরে আমন্ত্রন জানান। আমন্ত্রিত অতিথিরা ভেবেছিলেন নিছক একটি একটি নৈশ ভোজ। কিন্তু ভোজ খেতে গিয়ে পাঁচ তারকা হোটেলে আটক হন পাঁচ তারকা হোটেলে। যুবরাজের নির্দেশেই তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছে চাওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, দিতে না চাইলে নাকি বেধড়ক মারধরও করা হয়েছিল।

বছরের শুরুতে আটককৃতদের অনেককেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সৌদি সরকার দাবি করেছে, অন্ত্যরীণ এইসব ধন কুবেরদের অর্থের অনেকটাই দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত।

সৌদি আরব এই ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাথমিকভাবে ৮০০ বিলিয়ন ডলার জব্দ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। পরে তা কমে ৩০০-৪০০ বিলিয়ন ডলারে এসে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় ১০৬ ডলার বিলিয়নের বেশি পাওয়া যাবে না বলে মনে করছে সৌদি সরকার।

তবে ওই অঙ্কের অর্থ জব্দ করাটাও সম্ভব হবে না বলে অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করছেন। দেশটির সরকারও হয়তো তাই মনে করছে? সৌদি সরকার ধারণা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।

আটককৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে ধনবান ছিলেন আল-ওয়ালিদ বিন তালাল। যতটুকু জানা গেছে, তার কাছ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি জব্দ করা যাবে না।

গত মাসে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষৎকারে তালাল বলেছিলেন,“তার অবৈধ কোন অর্থ নেই,সরকারকে কিছুই দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত নন”।

ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান

সঞ্চিত অর্থের দিক থেকে এরপরে রয়েছেন মিতলেব বিন আবদুল্লাহ। কিন্তু তার থেকেও হয়তো শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন ডলারের বেশি পাওয়া সম্ভব হবে না।

আদায়ের এই হাল দেখে বিশ্লেষকরা অর্থ জব্দের বিষয়ে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার সাথে একমত হতে পারছেন না। অবশ্য ঠিক কতজনকে আটক করা তাও গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট নয়। মাত্র ৩০ জনের নাম পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দেশটির এটর্নি জেনারেল শেখ সৌদ আল মোজেব জানিয়েছিলেন, ৩৮১ জনকে আটক করা হয়েছিল।

ব্যাংকে থাকা সব অর্থ সৌদি সরকার জব্দ করতে পারছে না, বিশেষ করে সুইস ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থ। আবার ধন কুবেরদের বেশির ভাগ অর্থই বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগকৃত অবস্থায় রয়েছে।

তবে শেষচেষ্টা হিসেবে অভিযুক্তদের জমি বাজেয়াপ্ত করতে পারে সরকার। কিন্তু এতে শেষ পর্যন্ত কতটা লাভ বয়ে আনবে সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। কেননা, তেলে দর পড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক খাতকে বহুমুখী করতে দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় সৌদি সরকার।

এদিকে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তার সমর্থকরা বলছেন নভেম্বরের ঘটনা একটি ‘শক থেরাপি’। তাদের মতে বিগত দশকে প্রভাবশালীরা সরকারের চোখ ফাকি দিয়ে ৫২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

সিআইএ’র সাবেক বিশ্লেষক ব্রুস রাইডেল বলেছেন, “যদি সত্যি দুর্নীতির অর্থ সরকার ফেরত আনতে চায়, তবে সবার নাম এবং সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করেই তা করা উচিত। তা না হলে ব্যাপারটা এ রকম দাঁড়াবে, আর্থিক সঙ্কট মেটাতেই সরকার শুধু শুধু ঐ ব্যক্তিদের পকেটে হাত দিচ্ছে।”

যমুনা অনলাইন: এনপি/এফএইচ









Leave a reply