মিতু হত্যার সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে: পিবিআই প্রধান

|

মিতু হত্যার সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

বনজ কুমার মজুমদার আরও বলেন, নতুন মামলা হলেই তিনি গ্রেফতার হবেন। মিতুর বাবা বাদী হয়ে মামলা করবেন।

আজ বুধবার (১২ মে) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

পিবিআই প্রধান বলেন, বাবুল আক্তারকে আজ গ্রেফতার দেখানো হবে এবং আগের মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে পুলিশ। মিতুর বাবা বাদী হয়ে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা করবেন। এজাহার প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মামলার বাদীকে ইচ্ছা করলেই গ্রেফতার করা যায় না। বাদীকে গ্রেফতার করতে হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে হবে। খুলশী থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আজই কোর্টে যাচ্ছে পুলিশ। এটি দাখিলের পর নতুন মামলা হবে। নতুন মামলায় এক নম্বর আসামি হবেন বাবুল আক্তার।

পিবিআই প্রধান আরও বলেন, ঘটনাস্থলে মুসাকে দেখা যায়। মুসা নিয়মিত বাবুল আক্তারের বাসায় যেতেন। মুসা সোর্স ছিলেন কি না তা পিবিআই জানার চেষ্টা করে। এটাই পিবিআই প্রমাণের চেষ্টা করেছে। মিতু হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে জঙ্গি কার্যক্রমে আহত হন বলে বাবুল দাবি করেন। মিতু মৃত্যুর পর বাবুলের আচরণ ছিলো আপনজন হারানোর মতো। তাই তার কথা সবাই বিশ্বাস করেছিলেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পিবিআই বাবুলকে ঢাকায় ডেকেছিলো। বাবুল পিবিআইকে কিছু প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। বিষয়গুলো আইজিপিকে জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও জানানো হয়।

তিনি বলেন, নড়াইলে একজনকে আমরা পর্যবেক্ষণে নিই। তার নাম গাজী আল মামুন। সাইফুল হক নামে আরেকজনকেও পিবিআই ডাকে। দু’জনই বাবুলের বন্ধু। তারা সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এর ভিত্তিতে পুরোনো মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মাহমুদা খানম মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই সময় তার স্বামী তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। চট্টগ্রামে ফিরে তিনি পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মামলায় তিনি দাবি করেন, জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের তিনি জড়িত থাকায় তার স্ত্রী আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। তবে সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় তদন্তে নাটকীয় মোড় আসে। সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে বাবুল আক্তারের নামও। পরে তাকে চাকরি থেকে অবসর নিতে হয়। মিতু হত্যার পর বাবুল আক্তার প্রথমে ঢাকার মেরাদিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন। প্রথমে তাকে নির্দোষ বলে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিলেও পরে বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ হত্যাকাণ্ডের জন্য মেয়ের জামাইকে দায়ী করা শুরু করেন।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply