কর ফাঁকি দিতে মাল্টায় কোম্পানি খোলেন মুসা

|

প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারির নতুন তালিকায় এসেছে বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরসহ ২০ বাংলাদেশির নাম। মাল্টায় তার নামে নিবন্ধিত রয়েছে ‘ভেনাস ওভারসিজ হোল্ডিং’ নামে একটি অফশোর কোম্পানি। এই কেলেঙ্কারির প্রথম ধাপে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পরিবারসহ ১১ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন- আইসিআইজে।

গেলো বছর ৬ নভেম্বর, এক কোটি ৩৪ লাখ গোপন নথি ফাঁস করে আবারও সাড়া ফেলে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন- আইসিআইজে। ‘প্যারাডাইজ পেপার্স’ নামের রিপোর্টে প্রকাশিত ২৫ হাজার নথির মধ্যে আছে ৭৫ হাজার ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নাম, পরিচয়, ঠিকানা আর করস্বর্গ সংশ্লিষ্ট তথ্য।

ধাপে-ধাপে সেসব তথ্য প্রকাশ করছে আইসিআইজে। যার, সাম্প্রতিক পর্বে এসেছে ২০ বাংলাদেশির নাম। নতুন তালিকার সবাই মাল্টায় কোম্পানি খুলেছেন। ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি কর ফাঁকি দেয়ার জন্য ইইউ’র তালিকাভুক্ত ট্যাক্স হ্যাভেন হিসেবে পরিচিত।

পানামা, প্যারাডাইস, অফশোর লিকস মিলে এখন পর্যন্ত ৮৯ বাংলাদেশির নাম প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন- আইসিআইজে। প্যারাডাইস পেপারসের প্রথম ধাপে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর পরিবারসহ ১১ জনের নাম প্রকাশিত হয়।

তবে, এবারই প্রথম তালিকাভুক্ত হলেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী মূসা বিন শমশের। ২০১০ সালে, মাল্টায় তার নামে নিবন্ধিত রয়েছে ‘ভেনাস ওভারসিজ হোল্ডিং’ নামে একটি অফশোর কোম্পানি।

তালিকায় শাহনাজ হুদা রাজ্জাক ও ইমরান রহমানের নামে মাল্টায় নিবন্ধন হওয়া দুটি অফশোর কোম্পানি দেখিয়েছে, আইসিআইজে। যৌথ মালিকানার ওশান আইস শিপিং এবং সাউদার্ন আইস শিপিং ও প্রিয়াম শিপিং ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে নিবন্ধিত।

এবারের তালিকায় বাংলাদেশের বাইরে থেকেও ভুয়া নাম ও নথিপত্রে বেশ কয়েকজন অফশোর কোম্পানি খোলেন। প্রতিবেশী ভারত-ভিয়েতনাম যেমন রয়েছে, তেমনই আয়ারল্যান্ড-ইতালি-রাশিয়া ও সুইডেন থেকেও গোপনে অর্থ পাচার করেছেন বাংলাদেশিরা।

এর আগে বারমুডা, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সামোয়া, সী-শেলসের মতো ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ হিসেবে পরিচিত দ্বীপ রাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের কোম্পানি খোলার খবর দেয়, আইসিআইজে। সবচেয়ে বেশি ছিলো ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে। তবে, সেগুলোর বেশিরভাগই পুরনো।

নতুন তালিকায় রয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার জনের নাম। আইসিআইজে বলছে, তালিকা এখনও অসম্পূর্ণ। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য পর্যায়ক্রমে আরও নাম প্রকাশ করা হবে। ২০১৬ পযর্ন্ত হালনাগাদ মাল্টার এই তথ্য। সেই বছরও কোম্পানি খুলেছেন অনেকে। বেশিরভাগই গেল এক দশকে খোলা।

বিশ্বের আলোচিত কয়েকজন রাজনীতিবিদ, পপতারকা শাকিরা আর বোনো কর ফাঁকি দেয়ার জন্য মাল্টায় কোম্পানি খোলেন। কর ফাঁকির সে অভিযোগ নিয়ে শাকিরার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে স্পেনে।









Leave a reply