মাদারীপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

|

স্টাফ রিপোর্টার, মাদারীপুর:

কথাকাটাকাটির জেরে মাদারীপুরের শিবচরে এক ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা
ঘটেছে। সংঘর্ষে ৭ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ৪ জনকে আটক করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মাদবর ও সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বেপারীর মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। করোনা সংক্রমণের কারণে স্থগিত হওয়া ইউপি নির্বাচনে ওই ইউনিয়নের আতিকুর রহমান মাদবর ও মনোয়ার হোসেন বেপারী দু’জনই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ওই ইউনিয়নের আঁকনকান্দি গ্রামের একটি রাস্তায় আতিক মাদবরের সমর্থক মিরাজ আঁকন ও মনোয়ার বেপারীর সমর্থক তুষার বেপারীর সাথে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায় তুষার বেপারী মিরাজ আঁকনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে চলে যায়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা পাল্টা হামলা হয়। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। কয়েক দফা সংঘর্ষে মাহবুবুর রহমান (৩৮), এসকান বেপারী (৪০), কাউসার বেপারী (৩৭), আ. রাজ্জাক মাদবর (৬৫), ওবায়দুল বেপারীসহ ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোয়ার হোসেন বেপারীসহ শাহাদাৎ বেপারী, কাদির বেপারী, আলমগীর বেপারীকে আটক করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. এমদাদুল হক রাসেল বলেন, রাতে সংঘর্ষে আহত কয়েকজন রোগী হাসপাতালে এসেছে। এর মধ্যে ৭ জন রোগী গুলিবিদ্ধ ছিল। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিরাজুল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply