‘কণ্ঠযোদ্ধা’ বিজয় সরকারের ১১৬তম জন্মজয়ন্তী

|

এই পৃথিবী যেমন আছে/ তেমনিই ঠিক রবে/ সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে…। এই গানের রচয়িতা অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুরস্রষ্টা চারণকবি বিজয় সরকারের ১১৬তম জন্মজয়ন্তী আজ ২০ ফেব্রুয়ারি।

এ উপলক্ষে কবির জন্মস্থান নড়াইলের ডুমদি গ্রামে আজ মঙ্গলবার, এবং আগামী ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর কেউটিয়া গ্রামে লোককবি বিজয় সরকার স্মারক সমিতির উদ্যোগে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

চারণকবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের যুগ্ম-আহবায়ক এস এম আকরাম শাহীদ চুন্নু বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তিনি কবিগান গেয়ে যে টাকা উর্পাজন করতেন, তা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করতেন।

প্রকৃত নাম বিজয় অধিকারী হলেও সুর, সঙ্গীত ও অসাধারণ গায়কী ঢঙের জন্য ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেন। বিজয় সরকার একাধারে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। এক হাজার আট শতের বেশি গান লিখেছেন এবং সুর ও সঙ্গীত করেছেন। গানের কথায় ‍ও সুরে তিনি বেঁচে আছেন হাজারো মানুষের হৃদয়ে।

শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ভারতের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় ও পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ বিজয় সরকারের রচনা পাঠ্যতালিকাভুক্ত করেছে। রবীন্দ্রভারতী ও কল্যণী বিশ্ববিদ্যালয় বিজয় সরকারের ওপর গবেষণার জন্য পিএইচ ডি ডিগ্রী প্রদান করে থাকে।

২০০৯ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নড়াইল সদর উপজেলার ডুমদিতে ভবন ও বিজয় মঞ্চ নির্মিত হলেও অযত্ন-অবহেলায় তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাড়িতে ময়লা-অবর্জনার স্তূপ জমেছে। সংগ্রহশালা নির্মাণের দাবিও রয়ে গেছে উপেক্ষিত। মাত্র দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার কারণে দর্শনার্থীরা পড়েন বিপাকে।

বিজয় সরকার ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম নবকৃষ্ণ অধিকারী ও মা হিমালয়া দেবী। বিজয় সরকারের দুই স্ত্রী-বীণাপানি ও প্রমোদা অধিকারীর কেউই বেঁচে নেই। সন্তানদের মধ্যে কাজল অধিকারী ও বাদল অধিকারী এবং মেয়ে বুলবুলি অধিকারী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন। বার্ধ্যকজনিত কারণে ১৯৮৫ সালের ২ ডিসেম্বর ভারতের হাওড়ার বেলুড়ে পরলোকগমন করেন বিজয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ায় তাকে সমাহিত করা হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের ‘স্বাধীনতা পদক’ দেওয়ার দাবিসহ জাতীয় চারণকবির স্বীকৃতি প্রদান, তার নামে নড়াইলে ফোকলোর ইনস্টিটিটিউট নির্মাণ, পাঠ্যপুস্তকে কবির রচনা ও জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা, এবং গানগুলো পান্ডুলিপি আকারে সংরক্ষণসহ জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী জন্মভূমি নড়াইলের ডুমদিতে পালনের করার দাবি জানিয়েছেন এ শিল্পীর ভক্ত ও অনুাগীরা।

যমুনা অনলাইন: আরটি/এফএইচ









Leave a reply