‘সু চি কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেন না’

|

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের দায় কোনভাবেই এড়াতে পারেন না দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে এসে এমনটি বললেন একই বিষয়ে নোবেল জয়ী আরও দুই নারী- ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান, এবং যুক্তরাজ্যের মেরেইড ম্যাগুয়ার।

এই দুই নারীর পাশাপাশি বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন ইরানের শিরিন এবাদি। তিনিও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধন ও গণহত্যা বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।

ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান বলেন, “মিয়ামনমারে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা বন্ধে অং সান সু চিকে নীরবতা ভাঙতে হবে। তা না হলে তিনি বিশ্বাসঘাতকের আখ্যা পাবেন। অপরাধ দমনে যদি তিনি কোন পদক্ষেপ নিতে না পারেন তাহলে উচিত হবে পদত্যাগ করা।”

রোহিঙ্গা নির্যাতনের দায়ে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

যুক্তরাজ্যের মেরেইড ম্যাগুয়ার বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। বিচারের আওতায় আনতে হবে শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চিকেও। বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান দয়া করে রোহিঙ্গাদের অবহেলা করবে না।”

জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে ছয় মাস আগে বাংলাদেশে আসে এই রোহিঙ্গারা। নির্যাতিতদের আশ্রয় হয় কুতুপালাং, উখিয়া, বালুখালিসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে। সরকারি হিসাবে, এ সব ক্যাম্পে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ।

এই সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও আন্তরিক হওয়ার আহবান জানান শান্তিতে নোবেল জয়ী এই তিন নারী।

বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে তাওয়াক্কল কারমান বলেন, “নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানুষ ও সরকার যা করেছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এই কঠিন সময়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পাশে থাকতে হবে। সেই সঙ্গে খাদ্য, চিকিৎসাসহ রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

বর্ষার আগেই দুই লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে কোথায়, কীভাবে নেওয়া হবে তা নিয়ে কাজ করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম বলেন, “দুই লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় অভিভাবকহীন ৩৬ হাজার শিশুর একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে প্রশাসন। এই তালিকা চূড়ান্ত করতে খুব শিগগিরই কাজ শুরু করবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন।

যমুনা অনলাইন: এফএইচ









Leave a reply