২০৩০ সালের মধ্যে ৩০০ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে ইইউ

|

২০৩০ সালের মধ্যে ৩০০ কোটি বৃক্ষরোপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইউরোপের পুরোনো বনাঞ্চলগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই ৩০০ কোটি গাছ লাগানোর ঘোষণা দিয়েছে তারা।

গত বুধবার (১৪ জুলাই) নেয়া এ সিদ্ধান্তের কথা শুক্রবারে জানিয়েছেন ইইউ এর পরিবেশ, সমুদ্র ও মৎস্য সম্পদ বিষয়ক কমিশনার ভার্জিনিজাস সিনকেভিসিয়াস।

জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় ইইউ এর নেয়া নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউরোপ জুড়ে থাকা বনজ সম্পদ রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে ইইউ। সিনকেভিসিয়াস বলেন, জলবায়ু রক্ষায় আমাদের বনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমরা যদি বনজ বাস্তুসংস্থানের অপেক্ষাকৃত ভাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারি তবে কার্বন নিঃসরণের ব্যাপারে আমরা কিছুই আশা করতে পারি না।

মূলত এক্ষেত্রে ইউরোপের পুরোনো বনগুলোকে রক্ষার কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। সেই লক্ষ্যে এ বছরের শেষদিকে ইইউ কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে কোন কোন বনকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে তা নির্ধারণ করা হবে।

তিনশ কোটি গাছ লাগানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গাছ লাগালেই বন তৈরি হয়ে যায় না, একটি প্রতিষ্ঠিত পরিপূর্ণ বাস্তুতন্ত্র গঠনের ওপর জোর দেব আমরা। তার মতে, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম দিকে এ বিষয়ক একটি প্ল্যাটফর্ম অনলাইনে আসবে। সেখানে কি ধরনের গাছ লাগানো যেতে পারে তা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বিভিন্ন সরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনার ভার্জিনিজাস।

নতুন এ প্রকল্পের নীতিমালা তৈরি হবে ইইউ এর ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে। তবে পুরোনো বন রক্ষার কৌশল আগে যা ছিল, তাই থাকবে বলে জানিয়েছেন সিনকেভিসিয়াস। নতুন এই বনকৌশল ইউরোপীয় গ্রিনডিলেরই অংশ বলে জানিয়েছেন তিনি।

কিন্তু বন রক্ষায় ইইউ এর গৃহীত পদক্ষেপগুলোর সমালোচনা আসছে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো থেকে। কাঠশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন রক্ষায় গৃহীত নীতিমালার কারণে ৬৪০ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতি হবে তাদের। এই খাতে ইতোমধ্যেই ৩৬ লাখ লোকের কর্মসংস্থান নির্ভর করছে। ইইউ এর নানাবিধ বিধিনিষেধ ইউরোপের কাঠশিল্পকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

অন্যদিকে বিজ্ঞানীদের দাবি, কাঠনির্মিত পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু বিষয়ক লক্ষ্যগুলো এখন হুমকির মুখে। ইইউ এর কৃষি বিষয়ক কমিশনার জানুজ উজসিকাওস্কি বলেন, বনগুলো আমাদের মহাদেশ, সমাজ ও অর্থনীতির ফুসফুস। এখানকার বনজ সম্পদের ওপরে গ্রামাঞ্চলের মানুষ জীবিকা নির্ভর করে। পাশাপাশি নাগরিক জীবনের প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে।

অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বন সুরক্ষা নীতিমালা নিয়ে উভয় সংকটে রয়েছে। তবে ইইউ দাবি করেছে, কার্বন নিঃসরণ ২৭০ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ৩১০ মিলিয়ন টনে উন্নীত করতে তারা বদ্ধপরিকর।









Leave a reply