অদ্ভুত দশ অস্কার মনোনীত !

|

চলচিত্র জগতে কাজের স্বীকৃতি বা অর্জনের যে কয়টি মানদণ্ড আছে তার মধ্যে সবার আগে নিঃসন্দেহে অস্কারকেই বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রথমে অস্কারের জন্য কয়েকজনকে মনোনীত করা হয়। এরপর এরমধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে একজন বিজয়ী হন।

কিন্তু মনোনয়ন তালিকায় মাঝে মাঝেই এমন অদ্ভুত অদ্ভুত চরিত্র মনোনয়ন পেয়ে যান, যে তাতে কারও চক্ষু হয় চড়কগাছ আবার কেউবা বিস্ময়ে হা হয়ে যান! একবার মনোনয়ন পেয়েছিল একটি কুকুর। ফরাসী দার্শনিক জ্যা পল স্যাত্রেও একবার পেয়েছিলেন নির্বাচকদের সুদৃষ্টি। শুধু তাই না কয়েকবার এমন কিছু চরিত্রকে মনোনীত করা হয়েছিল যাদের কোন বাস্তব অস্তিত্বই নেই! এরকম ১০ টি ঘটনা তুলে ধরছি আমরা। কম বিস্ময়কর মনোনয়নটি প্রথমে রেখে এভাবে পর্যায়ক্রমে সবচেয়ে অদ্ভুতেড়ে ঘটনাটি রইলো সব শেষে।

১০। হারমাইওন ব্যাডলি
১৯৫৯ সালে হারমাইওন ব্যাডলি সেরা সহ-অভিনেতা ক্যাটাগরিতে মনোনীত হন জ্যাক ক্লেইটনের একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য। মজার ব্যাপার হল ব্যাডলির পর্দায় উপস্থিতি ছিল ২ মিনিটের জন্য!

০৯। পিয়েরে বোউলি
চিত্রনাট্য লেখার জন্য পিয়েরে বোউলিকে ১৯৫৮ সালে অস্কার দেয়া হয়। যদিও তার ১৯৫২ সালের লিখা উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে ‘দ্যা ব্রিজ অ দ্যা রিভার কাওয়াই’ ছবিটি নির্মিত হয় কিন্তু চিত্রনাট্য লেখার কৃতিত্ব আসলে কার্ল ফরম্যান এবং মাইকেল উইলসনের। কিন্তু সমস্যা হল এই দুজন লেখক তখন কমিউনিস্ট-ঘেষা হওয়ার অভিযোগে হলিউডে গ্রহণযোগ্য ছিলেন না। আর এতেই কপাল খুলেছিল বোউলির।

এ নিয়ে সবচেয়ে মজার কথা বলেছিলেন হলিউডের ইতিহাস গবেষক ল্যারি কেপলিয়ার। তিনি বলেছেন , “আরে আমরা সবাই জানি বোউলি ইংরেজী বলতেই পারে না, ও এই চিত্রনাট্য লিখবে কিভাবে!”

০৮। কাজুহিরো সুজি

সেরা মেক-আপের জন্য নির্বাচিত নরবিটের দৃশ্য

মেক-আপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজুহিরো সুজি বা রিক বেকার বিশ্বখ্যাত। তাদের দক্ষতাও পরীক্ষিত। কিন্তু ২০০৭ সালে নরবিট কমেডি সিনেমাটিতে সুজি তার সেরা কাজ দেখাননি তা নিয়ে- বিশ্লেষকরা একমত। তাছাড়া সিনেমাটিও ছিল স্থুল-রসের ভাড়ামো ধরণের। কিন্তু এতেই সেরা মেক-আপ আর্টিস্ট হিসেবে মনোনয়ন পান সুজি। সেসময় সবাইকে এটি বিস্মিত করেছিল।

কিন্তু শিল্পী হিসেবে সুজি বিশ্বমানের নিঃসন্দেহেই। এ বছরই ‘ডার্কেস্ট আওয়ার’ ছবিতে গ্যারি ওল্ডম্যানকে যেভাবে বৃটিশ নেতা চার্চিলের রূপে সাজিয়েছেন তাতে সবাই তাজ্জব মেনেছেন।

০৭। কেনেথ ব্রানাঘ
কেনেথ ব্রানাঘ জগদ্বিখ্যাত নাটক হ্যামলেট থেকে টানা চারঘণ্টার একটি চিত্রনাট্য বানালেন, সিনেমা তৈরীও হল। কিন্তু বোদ্ধারা একে সিনেমা বলতেই নারাজ হলেন। তাদের মতে এটা বড়জোর ‘ফিল্ম থিয়েটার’ সিনেমার ব্যাপ্তি বা স্বাদ এতে কই?
চিত্রনাট্যের অবস্থা দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক ব্রানাঘ হ্যামলেট থেকে নিদেনপক্ষে একটা খসড়া জোগাড় করেছেন। আর সেটাই কি না পেয়ে বসেছিল অস্কার মনোনয়ন!

০৬। জর্জ বার্নার্ড শ

নোবেলজয়ী স্কটিশ দার্শনিক ও নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ ১৯১৩ সালে পিগম্যালিয়ন নাটকটি লিখেছিলেন। এর পচিশ বছর পর এটি নিয়ে চলচিত্র হলে আরও তিনজন চিত্রনাট্যকারের সাথে যৌথভাবে তিনি অস্কার পান! সেসময় এটি আশ্চর্যজনকই ছিল।

পুরনো কাহিনী নির্ভর আখ্যান অস্কার জয় করতে পারে – এই ধারণা পরবর্তীতে ‘মাই ফেয়ার লেডির’ মত যুগান্তকারী চিত্রনাট্যকেও এনে দেয় অস্কার।

০৫। রডরিক জেইনস
হলিউডে জোয়েন এবং ড্যানিয়েল কোয়েন – এই দুই সহদোর অনেক বিশ্বখ্যাত সিনেমা সম্পাদনা করেছেন। এটি করতে গিয়ে তারা পর্দায় প্রায় ‘কাল্পনিক চরিত্র’ এনেছেন। মজার ব্যাপার হল পর্দার অন্তরালেও তারা কাল্পনিক নাম ব্যবহার করেছেন। ‘ফার্গো’ এবং ‘নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান’ চলচিত্র অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। সিনেমাগুলোতে সম্পাদক হিসেবে ‘রডরিক জেইনস’ নামে একজন রয়েছেন। অস্কার কতৃপক্ষ অনেক খুজেও বের করতে পারলেন না কে এই ‘রডরিক জেইনস’! থাকলে তো পাবে। কারণ এ নামে তো কারও অস্তিত্বই নেই।

সত্যিই যদি এই রডরিক অস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতেন তবে কি একটা বাগড়া লেগে যেত না? কে এসে পুরস্কার নিতেন!

এ নিয়ে প্রশ্ন করলে নির্লিপ্ত জবাব দিয়েছিলেন জোয়েন কোয়েন। বলেছিলেন-‘রডরিকের বয়স তো নব্বুইয়ের উপরে। থাকেন ইংল্যাণ্ডে। এ বয়সে এতদূরে এসে তিনি পুরস্কার নিতে পারতেন না।’

যাইহোক প্রতিভাবানরা এমন হেয়ালি করতেই পারেন।

০৪। জে ডেভিডসন
জে ডেভিডসন ১৯৯৩ সালে ‘দ্যা ক্রাইইং গেম’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেতা ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পান। সেসময় সবাইকে এটি অবাক করেছিল কারণ জে নারী ছিলেন না। তৃতীয় লিঙ্গের এই অভিনেত্রী সে সময়ের আল প্যাচিনো, নেকলসন বা হ্যাকম্যানদের মতো নায়কের বিপরীতে কাজ করবেন তা ভাবাটাই ছিল একটু কষ্টসাধ্য।

০৩। পি এইচ ভাযাক
লিজেন্ড অফ টারজান বা লর্ড অফ এপসের মত বিখ্যাত ছবির চিত্রনাট্য লিখার জন্য কেউ শুধু অস্কার মনোনয়ন কেন পুরস্কারটাই পেয়ে গেলে তাতে কারোও দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু ঘটনাটা অন্য জায়গায়।

ছবির চিত্রনাট্য পরিবর্তন করার প্রতিবাদে লেখক গ্রেস্টোকঃ দ্যা লিজেন্ড অফ টারজান ছবি থেকে নিজের নাম বাদ দিয়ে দেন। লেখক হিসেবে জুড়ে দেন পি এইচ ভাযাকের নাম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কে এই ভাযাক?

ভাযাক আসলে একটি কুকুর। ১৯৮৪ সালে সে চিত্রনাট্য লেখার জন্য অস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিল!

০২। ডোনাল্ড কাফম্যান
২০০২ সালের মার্কিন কমেডি-ড্রামা ছবি অ্যাডাপ্টেশনের চিত্রনাট্য লিখে দেন চার্লি কাফম্যান। সহ-লেখক হিসেবে ডোনাল্ড কাফম্যানের নাম পাওয়া যায়, চার্লির যমজ ভাই। ছবিটিতেও কাফম্যান ভাতৃ-যুগলের চরিত্র ছিল। এ দুটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন নিকোলাস কেজ।

তবে মজার ব্যাপার কি জানেন? ডোনাল্ড নামে চার্লির কোন ভাই নেই। কাল্পনিক ডোনাল্ড চার্লির সাথেই অস্কার পেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য লেখার জন্য।

০১। জ্য পল স্যাত্রে

স্যাত্রে ‘প্রাউড এন্ড বিউটিফুল’ গল্পের জন্য অস্কার মনোনয়ন পান। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত ছবির গল্পের জন্য ৩ টি ক্যাটাগরিতে অস্কার দেয়া হত। মৌলিক চিত্রনাট্য, অন্য কাহিনী অবলম্বনে লিখিত চিত্রনাট্যে এবং ছবির গল্পের জন্য।সে বছরই সেরা গল্পের ক্যাটাগরিটি উঠিয়ে দেয়া হয়।

স্যাত্রে সে বছরই সেরা গল্পের জন্য অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। যদিও শেষ অব্দি পুরস্কার তিনি পাননি।

তা হলেও একজন দার্শনিক মনোনয়ন পাচ্ছেন অস্কারের জন্য , ভাবুন তো ছবিটি কেমন হতে পারে। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আবার পরাবাস্তব সিনেমা নির্মাতা লুইস বুনুয়েল।









Leave a reply