চুয়াডাঙ্গায় ধর্ষণে অভিযুক্ত সেই ৫ম শ্রেণির দুই ছাত্রের জামিন

|

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত ৫ম শ্রেণির দুই ছাত্রকে জামিন দিয়েছেন আদালত।  রবিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় আলোচিত এই মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত শিশু আবির হাসান (১০) ও শিহাব হোসেন ওরফে সৌরভ (১১) কে গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করে। আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে অভিযুক্ত দুই শিশুকে জামিন দিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন খাঁন জানান, সদর উপজেলার আলুকদিয়া বাজার পাড়ার জনৈক এক ব্যক্তি তার বাক প্রতিবন্ধী ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে থানাতে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। একই সাথে তিনি তার শিশু কন্যাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। মামলায় ওই শিশুর পরিবার দাবি করেন, তার নয় বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে ফুসলিয়ে বাড়ীর পাশের একটি পরিত্যক্ত গুদাম ঘরে নিয়ে যায় একই এলাকার দুলালের ছেলে আবির হাসান আশিক (১০) ও একই গ্রামের আশাদুলের ছেলে সিহাব ওরফে সৌরভ (১১) ওই শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন খাঁনের দাবি ধর্ষণের অভিযোগটি হাতে পেয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার অপারেশন অফিসার ইন্সপেক্টর আমির আব্বাসকে নির্দেশ দেন। ইন্সপেক্টর আমির আব্বাস জানান, অভিযোগটি হাতে পেয়ে তদন্ত শুরু করলে দুই শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা মেলে। শনিবার রাতেই অভিযুক্ত দুই শিশুকে আটক করে থানাতে নেওয়া হয়।

এই কর্মকর্তার দাবি অভিযুক্ত আশিক ও শিহাব ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে রবিবার দুপুরে পুলিশ আলোচিত ধর্ষণের মামলাটি থানাতে রেকর্ড করেন। এরপর অভিযুক্ত দুই শিশুকে গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে শিশু আদালতে পাঠানো হয়।

শিশু আদালতের বিচারক শাহনাজ পারভীন উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে বয়সের কথা চিন্তা করে অভিযুক্ত দুই শিশুকে জামিন দেন। অভিযুক্ত দুই শিশুর আইনজীবী এ্যাড.ফজলে রাব্বি সাগর জামিনের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে যেহেতু ভিকটিম ও আসামী সবাই শিশু। তাই বিষয়টি পুলিশকে আরো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা দরকার ছিলো। আসামীদের বয়সের কথা চিন্তা করে জামিন মঞ্জুর করা হলো।

এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত আশিকের পিতা দুলাল আলির দাবি পূর্ব বিরোধের জের ধরে আমার শিশু পুত্রকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দুই দিন আগে বাক প্রকিবন্ধী ওই শিশুর মায়ের সাথে আমার স্ত্রীর ঝগড়া হয়। এই বিরোধের জের ধরেই আমাদেরকে হয়রানি করতে মিথ্যা এই মামলা।









Leave a reply