নারী দিবসে মুক্তি মিললো মনোয়ারার

|

শিশু অপহরণের দায়ে প্রায় ২০ বছর জেল খাটার পর জামিন পেয়েছেন এক নারী। দরিদ্র হওয়ায় কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ দুই দশক পর এক আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মনোয়ারা বেগম নামে কক্সবাজারের সেই নারীকে বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। শুধু জামিনই নয়, মনোয়ারা যদি তার আত্মীয় স্বজনকে খুঁজে না পান, তাহলে তাকে সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের জন্য কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এবং সমাজসেবা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, কক্সবাজারের রামু উপজেলার এলাকার জনৈক ইসমাইলের স্ত্রী এবং কাদির হোছনের মেয়ে মনোয়ারা বেগম ওরফে মোতাহেরা বেগম ওরফে খুরশীদা বেগম ১৯৯৮ সালের ১৩ জুন কক্সবাজারের সদর উপজেলার ঝিলাংজায় জনৈক মো. আবুল কালামের বাড়িতে গিয়ে বলেন,আমি আত্মীয়ের বাড়ি খুঁজতে এসেছি। কিন্তু পাইনি। যদি রাত থাকতে দেন, তাহলে ভালো হয়। এরপর তাকে কালামের বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়।

পরদিন সকালে কালামের মেয়ে রাজিয়া স্কুলে যাওয়ার পর মনোয়ারাও সেই বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে বের হন। দুপুরের পর থেকে রাজিয়াকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে কালাম জানতে পারেন, রাজিয়াকে পাচারের উদ্দেশ্যে মনোয়ারা অপহরণ করেছেন। তিন দিন পর ১৭ জুন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ব্রিজের গোড়ায় পুলিশের কাছে রাজিয়াসহ আটক হন মনোয়ারা।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০১ সালের ২৭ নভেম্বর কক্সবাজারের বিচারিক আদালত ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন অধ্যাদেশের ১২ ধারায় মনোয়ারাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

আদালতে আইনজীবী বলেন, মনোয়ারা বেগম দরিদ্র, গরিব। তার উকিল নিয়োগের সামর্থ্য নেই।

আদালত তার বয়স জানতে চান। আইনজীবী ৪৫ বছর বলে জানালে আদালত তার পরিবারের বিষয়ে জানতে চান। আইনজীবী জানান, গরিব ও দরিদ্র থাকায় হয়তো পরিবারের সাথে যোগাযোগ নেই।

এরপর আদালত বলেন, নারী দিবসের কথা উল্লেখ করে ও দীর্ঘ কারাবাস বিবেচনায় নিয়ে আসামি মনোয়ারাকে জামিন দেন। মনোয়ারার সামাজিক পুনর্বাসন দরকার হলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও সমাজসেবা অফিসারকে তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন।

এ সময় আদালত পর্যবেক্ষণ দেন, যারা দীর্ঘ কারাবাসে আছে তাদের মুক্তির পর যদি সামাজিক পুনর্বাসন দরকার হয়, তাহলে সরকার সেটা করবেন। এ আদেশ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, আইন সচিব ও সমাজকল্যাণ সচিব বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

যমুনা অনলাইন: আরআর/টিএফ









Leave a reply