নিজে মূত্রপান এবং সন্তানদের স্তন্যপান করিয়ে মাঝ সমুদ্রে মারা গেলেন মা!

|

মাঝ সমুদ্রে সন্তানদের বাঁচিয়ে চলে গেলেন মা। ছবি: সংগৃহীত

পরিবার নিয়ে জনমানবহীন দ্বীপে রোমাঞ্চকর ভ্রমণে গিয়েছিলেন মেরিলি নামের ভেনেজুয়েলার এক নারী। কিন্তু মাঝ সমুদ্রে দুর্ঘটনায় পড়ে তাদের ইয়ট। ভাঙা ইয়টের অংশে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে টানা চারদিন বেঁচে থাকার জন্য প্রাণপণ লড়াই করেন ওই নারী। শেষ পর্যন্ত নিজেকে রক্ষা করতে না পারলেও সন্তানদের বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

যে দিকে দু’চোখ যাচ্ছিল শুধু পানি আর পানি। সমুদ্রের ঢেউয়ে যে কোনও মুহূর্তে ইয়টের ভাঙা অংশটা উল্টে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল মাঝেমধ্যেই। দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে ওই ভাঙা অংশেই বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন ভেনেজুয়েলার মেরিলি। সময় যতই যাচ্ছিল শরীর ততই অবসন্ন হয়ে আসছিল। তার মধ্যে সূর্যের তাপে ডিহাইড্রেশন হওয়ার ভয় পাচ্ছিলেন। পানি ছিল না, খাবারও ছিল না।

ছেলেমেয়েকে বাঁচাবেন কী করে এই ভাবনা তাকে ঘিরে ধরছিল। আর সেটাই যেন তাকে শক্তি জুগিয়ে গিয়েছে ওই ভয়ানক পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতে।

উপায় না দেখে নিজের প্রস্রাব পান করেছিলেন যাতে শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে না যায়। আর ছেলেমেয়েকে ডিাইড্রেশন থেকে বাঁচাতে নিজের স্তন্যপান করিয়ে গিয়েছেন। তিন দিন সমুদ্রে এ ভাবেই কাটিয়েছেন। কিন্তু চতুর্থ দিন আর পারেননি। উদ্ধারকারীরা আসার আগে ডিহাইড্রেশনে মারা যান মেরিলি নিজেই। কিন্তু সন্তানদের বাঁচিয়ে গিয়েছেন তিনি। মায়ের নিথর দেহ আঁকড়ে দুই শিশুকে ভাসতে দেখেছিলেন উদ্ধারকারীরা। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভেনেজুয়েলা থেকে ক্যারিবীয় দ্বীপ লা তোর্তুগাতে বেড়াতে গিয়েছিলেন মেরিলি। তার ছেলে-মেয়েসহ মেরিলিরা সংখ্যায় নয়জন ছিলেন। তারা থর দ্য হিগুরেতে নামের একটি ইয়ট ভাড়া করে সেখানে গিয়েছিলেন।

৫ সেপ্টেম্বরই ফিরে আসার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা বেজে গেলেও ফেরেননি মেরিলিরা। তখন সন্দেহ হওয়ায় ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল মেরিটাইম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই সংস্থা। তাদের জানানো হয় গন্তব্যস্থলে ইয়ট পৌঁছায়নি, রওনাস্থলে ফিরেও আসেনি।

৬ সেপ্টেম্বর মেরিলিদের যাত্রাপথে খোঁজ শুরু করে ভেনেজুয়েলার মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ। ৭ সেপ্টেম্বর সকালে ওই দ্বীপ থেকে কিছুটা দূরে তারা দেখতে পান ইয়টের একটা ভাঙা অংশ ভাসছে সমুদ্রে। তাতে দুই সন্তানসহ মেরিলিকে দেখতে পান তারা। তবে মেরিলিদের উদ্ধার করা গেলেও বাকি সদস্যরা এখনো নিখোঁজ।

মেরিলির মারা গেলেও তার দুই সন্তান বেঁচে আছেন। মৃত্যুর আগে দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে ইয়টের ভাঙা অংশেই বাঁচার লড়াই চালিয়েছিলেন মেরিলি চেকন।


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply