তবু হাসিনকে নিয়েই সংসার করতে চাই: সাক্ষাৎকারে শামি

|

কয়েকদিন ধরেই ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামিকে নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। তাকে বিশ্ব চেনে সুইং এক্সপার্ট হিসেবে আর তিনিই কিনা কাবু স্ত্রীর একের পর এক বাউন্সার। অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন শামি। একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক, ইংল্যান্ডের নম্বর-সহ গোপন মোবাইল ব্যবহার করা— স্ত্রীর তোলা গুরুতর সব অভিযোগের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলেন আনন্দবাজারকে। নিচে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: আপনার স্ত্রী গুরুতর সব অভিযোগ তুলেছেন। আপনি কী বলবেন সেই সব অভিযোগ নিয়ে?

মহম্মদ শামি: দেখুন, অভিযোগ তো যে কেউ-ই করতে পারে। তাতে কোনও সমস্যা নেই। সেগুলো কিন্তু প্রমাণও করতে হবে। আমার একটা কথা হচ্ছে, হঠাৎ করে এই অভিযোগগুলো আমার সম্পর্কে তোলা হচ্ছে কেন? দু’দিন আগেই তো আমি ঠিক ছিলাম। ‘অচ্ছে ইনসান’ (ভাল মানুষ) ছিলাম। দু’দিনের মধ্যে এতটা খারাপ হয়ে গেলাম কী করে!

প্রশ্ন: অভিযোগ করছেন আপনার স্ত্রী।

শামি: দেখুন, প্রথমেই বলি স্ত্রীর প্রতি ভালবাসায় কোনও ঘাটতি হয়নি আমার। এই যে এত সব সাংঘাতিক অভিযোগ ও করেছে, তার পরেও আমি ওর সঙ্গেই থাকতে চাই। এখনও আমি ওকে আগের মতোই ভালবাসি। হাসিনকে নিয়ে, আমার মেয়েকে নিয়ে আমি আগের মতোই সুখে থাকতে চাই। শুধু এটা বুঝতে পারছি না যে, হাসিন কী করে এমন সব কথা বলছে! মাঝেমধ্যে আমিও বিস্মিত হয়ে ভাবছি, এ সব কী বলছে ও! আমি ওর উপরে শারীরিক আর মানসিক অত্যাচার করেছি! আমার পরিবার ওর সঙ্গে বর্বরতা করেছে! ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছি! জানি না, এ সব কথা ও কী করে বলছে! আমার তো মনে হচ্ছে, কেউ একটা ওকে ভুল বোঝাচ্ছে। না হলে আমাদের মধ্যে ভালবাসার অভাব তো কখনও হয়নি।

প্রশ্ন: হাসিন এসব হঠাৎই বলছেন?

শামি: একেবারেই তাই। হোলিতেও আমরা একসঙ্গে হাসিখুশি ভাবে দিন কাটিয়েছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সব ছবি পোস্ট করেছি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হতে পারে কিন্তু কখনও সীমানা অতিক্রম করেনি। সেই কারণে বিস্মিত হচ্ছি দেখে যে, প্রকাশ্যে এসে ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ ও করছে। এ সব অত্যাচার নিয়ে আগে কখনও সরব হল না কেন?

প্রশ্ন: আপনার কী মনে হয়? আপনার স্ত্রী হঠাৎ এ রকম অভিযোগ করছেন কেন?

শামি: সেই প্রশ্নটা ম্যাডামজি-কে করলেই বোধ হয় ঠিক হবে। একমাত্র ও-ই এর উত্তর দিতে পারবে। ও আমার পরিবারের কথা তুলে অনেক কিছু বলেছে। আমার পরিবার ওকে আগেও যে রকম ভালবাসত, এখনও সে রকমই ভালবাসে। এখনও সকলে চায়, আমরা একসঙ্গে থাকি। আর শুনুন, আমার পরিবারের লোকেরা ওর সঙ্গে কথাও বলছে। ওর সঙ্গে কথা বলতে কলকাতাতেও গিয়েছে আমার পরিবারের লোকেরা।

প্রশ্ন: আপনি কি চেষ্টা করছেন ঘরের সমস্যা ঘরেই মিটিয়ে ফেলতে?

শামি: বার বারই বলার চেষ্টা করছি যে, মিয়াঁ-বিবির ঘরের ব্যাপার ঘরেই থাকুক। এ সব করে কী হবে? যারা হাসি-মজা করার, তারা করে যাচ্ছে। মাঝখানে থেকে ভুগছে একটা পরিবার। ক্ষতি কার হচ্ছে এতে? আমাদের তিন জনের। আমার, হাসিনের, আমাদের মেয়ের। এটা মাথায় থাকা দরকার।

প্রশ্ন: আপনার মনে হচ্ছে কি আর শান্তিপূর্ণ ভাবে মিটমাট সম্ভব?

শামি: অবশ্যই সম্ভব। আমি এখনও খুবই আশাবাদী যে, হাসিন বুঝতে পারবে এবং আমরা আবার একসঙ্গে থাকব। যে অভিযোগ আমার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো আইনি পথে সমাধান করা হোক, আমার কোনও আপত্তি নেই। আমিও চাই সমস্ত অভিযোগ নিয়েই তদন্ত করা হোক। কারণ, যে সাংঘাতিক সব কথা বলা হয়েছে আমাকে নিয়ে, সেগুলোর সঠিক অনুসন্ধান হওয়া দরকার। সেটা একটা দিক। আর একটা দিক হচ্ছে, আমার পারিবারিক জীবনের ভবিষ্যৎ। মিটমাটের প্রশ্ন যদি করেন, তা হলে আপনাকে জানাই, সেই প্রয়াস শুরু হয়েছে। আমাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। উপরওয়ালা সঙ্গে থাকলে সেই প্রয়াসকে সম্পূর্ণ করা যাবে।

প্রশ্ন: আপনার স্ত্রীর দাবি, একটি মোবাইল পাওয়া গিয়েছে। সেই মোবাইলে রয়েছে ইংল্যান্ডের নম্বর। সেই মোবাইল থেকে পাওয়া তথ্য থেকেই এই সব অভিযোগ করেছেন তিনি। মোবাইলটি কি আপনার?

শামি: না। মোবাইলটি আমার নয়, এর মধ্যে যে নম্বরটি রয়েছে সেটিও আমার নয়। অভিযোগ করার হলে অনেক কিছুই বলে দেওয়া সম্ভব। তার জন্য কিছু চিন্তাভাবনা করার দরকার নেই। তদন্ত হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে, মোবাইলের মধ্যে কী আছে!

প্রশ্ন: আপনার স্ত্রী কয়েকটি অডিও শুনিয়েছেন। সেগুলোর বয়ান অনুযায়ী, বিদেশের কয়েক জনের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ রয়েছে।

শামি: দুবাইয়ে যাওয়া নিয়ে অডিওটা আমি শুনেছি। এ নিয়ে যথা সময়ে উত্তর দেব। আপাতত একটা কথাই বলব যে, সন্দেহজনক প্রশ্ন তোলার মতো কোনও ঘটনা দুবাইয়ে ঘটাইনি।

প্রশ্ন: একাধিক অশ্লীল চ্যাট পাওয়া গিয়েছে মোবাইলে। সেগুলো?

শামি: তদন্ত হোক। সব প্রমাণ হয়ে যাবে। সেই সব ছবি আর চ্যাট তো নিশ্চয়ই জমা পড়বে পুলিশের কাছে। তদন্ত হলে মোবাইল সম্পর্কে সব কিছুই বেরিয়ে আসবে। কার সঙ্গে আমি যোগাযোগ রেখেছি কি রাখিনি, কোন মহিলার সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়েছে কি হয়নি, সব বেরিয়ে আসবে।

প্রশ্ন: এক দিকে স্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে আইনি লড়াই। আবার পরিবারের সঙ্গেও আগের মতো থাকতে চান। আপনার স্ত্রী ও বাচ্চার সঙ্গে। দু’টো দিক কী ভাবে সামলানো সম্ভব?

শামি: লড়াইয়ের কোনও ব্যাপার নেই। আমি শুরু থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে সমঝোতার মাধ্যমে আমরা দু’জনে আবার এক হতে পারি। তাতেই আমার পরিবারের জন্য মঙ্গল, আমাদের বাচ্চার জন্য মঙ্গল। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, হাসিন কোথাও একটা ভুল বুঝেছে। কেউ ওকে ভুল পথে চালিত করেছে। ও নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে। আমি আশাবাদী, ওর শুভবুদ্ধি ফিরবে আর আমাদের জীবন আগের মতোই আবার সুন্দর হয়ে উঠবে।

প্রশ্ন: কলকাতায় এসে তা হলে বোঝাচ্ছেন না কেন স্ত্রী-কে?

শামি: আমি অবশ্যই কলকাতায় যাব। প্রথমে ওর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। ফোনে কথা বলে আসব ভেবেছিলাম।

প্রশ্ন: কথা কি হয়েছে স্ত্রীর সঙ্গে?

শামি: না, আমার সঙ্গে সরাসরি হয়নি। তবে আমার পরিবারের লোকদের সঙ্গে ওর কথা হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনি কয়েক জন ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশা করছেন, সেটাও তদন্ত করে দেখা উচিত বলে আপনার স্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন। ‘মহম্মদ ভাই’ নামে এক জনের টাকাও নাকি আপনি নিতে যাচ্ছিলেন বলে অডিও শুনিয়েছেন। এটা নিয়ে কী বলবেন?

শামি: আমি এটাই বলব যে, দেশকে বিক্রি করার মতো ক্রিকেটার আমি নই। ভারতের হয়ে খেলার চেয়ে বড় গর্ব আমার কাছে আর কিছুতে নেই। দেশের হয়ে খেলতে নেমে সেরাটাই সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছি। দেশকে ক্রিকেট ম্যাচে জিতিয়ে সব চেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছি। কোনও সন্দেহজনক কাজ আমি করিনি। আমিও চাই, এগুলো নিয়ে পরিপূর্ণ তদন্ত হোক। যদি আমি দোষী প্রমাণিত হই, তখন যেন অপরাধীর মতোই শাস্তি দেওয়া হয়। আমি সেই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতাও করব। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া যেন এত বড় সব অভিযোগ চাপিয়ে না দেওয়া হয়। মনে রাখা দরকার, অনেক পরিশ্রম করলে তবেই এক জন ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছতে পারে। সেটাকে যেন অভিযোগের স্রোতে প্রমাণ ছাড়া ভাসিয়ে না দেওয়া হয়।

প্রশ্ন: এত অভিযোগের পরেও আপনি বলছেন, স্ত্রীর সঙ্গেই থাকতে চান। সত্যিই কি সেটা চান?

শামি: হ্যাঁ, চাই। স্ত্রী, মেয়েকে নিয়েই আমি থাকতে চাই। আমার দু’টো সংসার। একটা ক্রিকেটের, সেখানে আমি দেশের হয়ে ম্যাচ জিততে চাই। যেমন এত দিন ধরে জেতার চেষ্টা করে গিয়েছি। অন্য সংসারটা আমার পরিবার। যেমন ক্রিকেট সংসারে আনন্দে থাকতে চাই তেমনই স্ত্রী, মেয়েকে নিয়ে সুখে থাকতে চাই।

প্রশ্ন: সেটা কি সত্যিই সম্ভব?

শামি: অবশ্যই সম্ভব। আমি খুবই আশাবাদী যে, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের জীবন আগের মতোই আবার সুন্দর হয়ে যাবে। টুইটারে যখন আমার স্ত্রীকে সবাই আক্রমণ করেছিল খোলামেলা পোশাক পরার জন্য, আমি পাশে দাঁড়াইনি? সব সময়ই আমি স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছি। এখনও দাঁড়াচ্ছি। যা অভিযোগ করার, করেছে। আমার হয়তো বদনাম হয়েছে। ঠিক আছে। সব ভুলে যেতে রাজি আছি। পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চাই আমি। আর যদি কেউ অভিযোগগুলোর হেস্তনেস্ত চান, আপত্তি নেই। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আমি।









Leave a reply