বাংলাদেশি বিমানের যত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

|

আজ সোমবার নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান দূর্ঘটনায় অর্ধ শতাধিক যাত্রী ও ক্রু নিহত হয়েছেন।

এ দূর্ঘটনার পর স্বভাবতই অনেকেই স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন এত বড় ঘটনা আগে কোনো দিন ঘটেছে কিনা। যদি নিহতের সংখ্যা যা ধারণা করা হচ্ছে তাই হয়, তবে এটি বাংলাদেশি বিমানের সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনা, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুট নির্বিশেষে।

শুধু আন্তর্জাতিক রুট আমলে নিলে এটি এ যাবৎকালে সবচেয়ে বড় বিমান দূর্ঘটনা। অভ্যন্তরীণ রুটে ঠিক এমনই এক মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৪ সালে ৫ আগস্ট, তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তথা বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে। চট্টগ্রাম থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘ফকার এফ-২৭’ বিমানটি বিধ্বস্ত হলে ৪৯ জন ক্রু ও যাত্রীর সবাই নিহত হন।

এটিই রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের সবচেয়ে বড় দূর্ঘটনা। এ ছাড়া, ১৯৭২ সালে ১০ ফেব্রুয়ারি ডগলাস ডিসি-৩ প্রশিক্ষণ বিমান ঢাকায় বিধ্বস্ত হলে চার জন ক্রু’র মধ্যে তিন জন নিহত হন।

হতাহত ঘটেছে এমন বিবেচনায় বাংলাদেশি বিমান সংস্থাগুলোর স্বাধীনতার পর থেকে আজকের ঘটনার আগে একটি দূর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রু এভিএশনের একটি আন্তোনভ ২৬-বি মডেলের একটি উড়োজাহাজ ২০১৬ সালের ৯ মার্চ কক্সবাজার থেকে উড্ডয়নের পর পরই বঙ্গোপসাগরে বিধ্বস্ত হয়। এতে কোনো যাত্রী ছিল না। তবে চার জন ক্রু’র মধ্যে তিন জনই নিহত হন। বেসরকারি এই বিমান সংস্থাটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

স্বাধীনতার পর থেকে এই অবধি, দেশের মাটিতে বাংলাদেশি বিমান সংস্থার (সরকারি-বেসরকারি) মোট ১২টি বিমান দূর্ঘটনায় পতিত হয়েছে বলে এভিয়েশন সেফটি নেট (এএসএন) সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া, তিনটি বিদেশি কোম্পানির বিমানও বাংলাদেশের মাটিতে দূর্ঘটনার মুখে পড়েছিল।

এএসএন আরও জানাচ্ছে, ১৯১৯ সাল থেকে বাংলাদেশের মাটিতে মোট ৬৬টি বিমান দূর্ঘটনা ঘটেছে। এর বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর বিমানে ক্ষেত্রে।

যমুনা অনলাইন: এফএইচ









Leave a reply