হাওয়া’র কবর জেদ্দায়, রূপকথা নাকি বাস্তব?

|

বিশ্বের একেশ্বরবাদী ধর্ম অনুসারে, মানবজাতির আদিমাতা হাওয়া। সৌদি আরবের জেদ্দায় আদিমাতার কবর রয়েছে-এমন দাবি নিয়ে দেশটিতে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ওই কবরস্থান পরিদর্শন শেষে আরব নিউজ জানিয়েছে, হাওয়া’র সমাধি চিহ্নিত করা, এবং তার সঠিক মৃত্যু তারিখ নিশ্চিত করা খুবই কঠিন। কেউ কেউ দাবি করছেন জেদ্দার সমাধিটিতে হাওয়াকে সমাহিত করা হয়েছে। আবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বিষয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।

জেদ্দার আমারিয়া পাড়ায় ওই কবরস্থান অবস্থিত। স্থানীয় বয়স্ক বাসিন্দাদের মতে, এটি  লাখ লাখ বছরের পুরোনো কবরস্থান। কিন্তু জেদ্দার ইতিহাস নিয়ে লেখা বইয়ের লেখক মোহাম্মদ ইউসুফ ত্রাবুলসি জানান, সব ইতিহাসবিদই এ অঞ্চলে হাওয়া’র উপস্থিতির বিষয়ে একমত হলেও সুর্নিদিষ্ট অবস্থান নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে, কবরস্থানটি অনেক পুরোনো এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিছু সংখ্যক ইতিহাসবিদ ও ভ্রমণকারী বলছেন, এটি হিজরী নবম শতক থেকে এখানে রয়েছে।

মক্কার উম্ম আল-কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভ্যতা বিষয়ক অধ্যাপক আদনান আল-হারথি বলেন, “জেদ্দায় হাওয়া’র কবরের অবস্থান নিয়ে বৈজ্ঞানিক অভিমত পক্ষে-বিপক্ষে কোনোটাই নয়, অর্থাৎ নিরপেক্ষ। হিজরি ষষ্ঠ শতকের আরব ভূগলবিদ ও ভ্রমণকারী ইবনে জুবায়ের বলেছিলেন, জেদ্দায় ভ্রমণকালীণ সময়ে হাওয়া’র কবর নামে একটি সমাধি দেখেছিলেন। অপর আরব ভ্রমণকারী ইবনে বতুতাও জেদ্দায় হাওয়া’র কবরের অবস্থানের বিষয়ে বলেছিলেন। তিনি হিজরি সপ্তম শতকে জেদ্দা ভ্রমণ করেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “বৈজ্ঞানিক সূত্রগুলো বলছে আদম ও হাওয়া মক্কার বসবাস করতেন। কিন্তু হাওয়া’র কবর জেদ্দায়, এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই।”

ওই কবরস্থানে হাওয়া’র কবর রয়েছে এমটিই বহু গল্প বা ঘটনা ইতিহাসবিদ ও ভ্রমণকারীরা  বলেছেন। কেউ কেউ তাদের বইতে কবরের আকার-আকৃতির বর্ণনা, এমনকি নকশা দিয়েছিলেন।

ইতিহাসবিদ মুহাম্মাদ আল-মাক্কি তার ‘দ্য ট্রু হিসটোরি অব মক্কা অ্যান্ড দ্য নোবেল হাউজ অব গড’ বইতে লিখেছেন “হজের মৌসুমে হাওয়া’র সমাধিতে প্রচুর দর্শণার্থী ভিড় করতো। হজের নিয়ম-কানুনগুলো পালন শেষে তারা সেখানে যেতেন। প্রতারকরা তাদের কাছে ওই সমাধির মাটিও বিক্রি করতো।”

এই রকম ঘটনা বর্ণনা করার পরও কিছু ইতিহাসবিদ ওই কবরস্থানে হাওয়া’র সমাধি থাকার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। সমকালীন সৌদি লেখক মুহাম্মদ সাদিক দিয়াম বলেন, “ওখানে হাওয়া’র কবর রয়েছে এই বিষয়ে কোনো যৌক্তিক প্রমাণ নেই। আমি মনে করি এটি একটি কল্প-কাহিনী (মিথ)।”

আরেকটি পুরানো গল্পে বলা আছে, কবরস্থানে ভেতর একটি সমাধির ওপর তিনটি গম্বুজ রয়েছে, এবং বিশ্বাস করা হত যে ওই সমাধিটিই হাওয়া’র কবর।

কিন্তু এখন এ ধরনের কোনো গম্বুজ নেই, সকল সমাধি একই রকমের, এবং এমন কিছু অবশিষ্ট নেই যে তা ওখানে হাওয়া’র সমাধিকে নিশ্চিতভাবে দেখিয়ে দেবে।

যমুনা অনলাইন: এফএইচ









Leave a reply