সকালে আত্মহত্যার চেষ্টা, বিকেলে বিয়ে

|

সকাল বেলা গরু চড়াতে এসে রাখালরা দেখে অচেনা দুই যুবক-যুবতি হাতে নাইলনের দড়ি নিয়ে জঙ্গলে ঘুরছে। বিষয়টি রাখালদের সন্দেহ হয়। পরে দেখা গেলো এরা আত্মহত্যার চেষ্টা করছে। সাথে সাথে তাদেরকে আটক করে। অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, এরা একে অপরকে ভালোবাসে কিন্তু ছেলের পরিবার তাদের মেনে নিচ্ছে না তাই আত্মহত্যা করার পরিকল্পনা করেছে। এ ঘটনা শুনে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা এদেরকে বিয়ে করিয়ে দেন। এ ঘটনা ঘটে ভারতের বীরভুমে।

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মনোরঞ্জন আঢ্য ও পূর্ণিমা পাল। দুজনেই বীরভূমের লোকপুর থানার কমলপুরের বাসিন্দা। মনোরঞ্জন লোকপুর থানার সিভিক ভলানটিয়ার। পূর্ণিমা প্রথম বর্ষের ছাত্রী। একই গ্রামের পূর্ণিমাকে মেনে নিচ্ছিলোনা মনোরঞ্জনের পরিবার। কারণ পূর্ণিমার থেকে তাঁরা উচ্চবর্ণের। তাই দুজনে ঠিক করেন এ জীবনের ভালবাসা, মৃত্যুতেই পূর্ণতা পাক। সেই পরিকল্পনা মতো রবিবার সকালে প্রেমিকাকে নিয়ে যান হিংলো নদীর ধারে নির্জন জঙ্গলে। সেখানেই তাঁরা গাছে নাইলন দড়ি টাঙিয়ে আত্মহত্যার মৃত্যুর পরিকল্পনা করে। তাদের এই গতিবিধি নজরে আসে স্থানীয় রাখালদের। তারাই খবর দেন এলাকার তৃণমুল নেতা লখাই দাঁকে। পরে দুই পরিবারকে ডাকা হয়। দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক। তাই তাঁদের বিয়েতেও কোনও আপত্তিই নেই বলে পুলিশের পক্ষ থেকেও জানিয়ে দেওয়া হয়।

তারপরেই দুই জীবনকে মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচিয়ে নতুন জীবন গড়ে দেওয়াকে ঘিরে উৎসাহ দেখা দেয়। গ্রামের মেয়েরাই উদ্যোগ নেয় পূর্ণিমাকে সাজাতে। তাঁকে লাল শাড়িতে চুয়া চন্দনে সাজিয়ে মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। মনোরঞ্জনকে সাজান তাঁর বাড়ির লোকেরা। দুই পরিবারের লোকের উপস্থিতিতে বিগ্রহের সামনে সিঁদুর দান করা হয়। বাইরে সেই আনন্দে গ্রামবাসীরা খিচুড়ির বউভাত খায়।

 









Leave a reply