জব্দ বাইক বেচে পুলিশের ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ

|

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ:

নওগাঁর রাণীনগরে আটক মাদক ব্যবসায়ীর মোটর সাইকেল বিক্রি করে সেই টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযানের সময় আটক মোটর সাইকেলটি জব্দ তালিকায় না তুলে প্রায় দুই লাখ টাকার বাইক গোপনে বিক্রি করে এক লাখ ২০ হাজার টাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর থানা পুলিশের নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে ৩ মার্চ এসআই তরিকুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে উপজেলার নগর ব্রীজ এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় পাশের কুজাইল গ্রামের  আব্দুস সালামের ছেলে কেফায়েত হোসেনকে হেরোইনসহ আটক করা হয়। আটকের সময় কেফায়েতের কাছ থেকে একটি আরটিআর এ্যাপাচি মোটর বাইক জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

আটকের পর দিন কেফায়েতকে আদালতের নির্দেশে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করলেও জব্দ তালিকায় মোটর সাইকেলটির কথা বাদ রাখে পুলিশ। মামলার বাদি হোন এসআই তরিকুল ইসলাম।

ঘটনার দু’দিন পর রাণীনগর থানার পরিদর্শক (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমান ও উপ পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলাম গোপনে মাদক ব্যবসায়ী কেফায়েতের মোটর সাইকেলটি বিক্রি করে দেন। ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় সেটি কিনে নেন স্থানীয় নিকাহ রেজিষ্টার (কাজী) বেলাল হোসেন।

এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান তরিঘরি করে কেফায়েতের বাবা আব্দুস সালামকে থানায় এনে বাইক বিক্রির ৭০ হাজার টাকা ধরিয়ে দেন। একইসাথে তাকে জানিয়ে দেন- বাকি টাকা পুলিশের মধ্যেই কম-বেশি করে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়া হয়েছে।

মাদক ব্যবসায়ী কেফায়েতের বাবা আব্দুস সালাম জানান, পুলিশ কেফায়েতের মোটর সাইকেলটি বিক্রি করার সময় কাউকে জানায়নি। পরে মাত্র ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনা চাপা দিতে বলেছে। কত টাকা দিয়ে বিক্রি করেছে সেটাও জানায়নি তারা।

কাজী বেলাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় পুলিশের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটর সাইকেলটি কিনেছেন তিনি। তার কাছে উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বাইকের চাবি সরবরাহ করেছে।

এ বিষয়ে রাণীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান মোটর বাইক বিক্রির সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মাদক ব্যবসায়ী কেফায়েতকে হেরোইনসহ আটকের পর মামলা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়। আর বৈধ কাগজপত্র মূলে তার পরিবারের কাছে জব্দকৃত মোটর সাইকেলটি হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে বাইকটি বিক্রি হয়ে থাকলে তার সাথে পুলিশের কোন সম্পৃক্ততা নেই মন্তব্য করেন ওসি।









Leave a reply