গোপালগঞ্জে শুরু হয়েছে বারুনী স্নানোৎসব ও মেলা

|

স্টাফ রিপোর্টার, গোপালগঞ্জ

আজ বুধবার বিকেল থেকে শুরু হয়েছে লাখ লাখ মতুয়া ভক্তের সমাগমে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২০৭-তম জন্ম তিথিতে মহাস্নানোৎসব ও বারুয়ানী মেলা। এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় স্নানোৎসব ও মেলা। অনুষ্ঠানটি সফল ভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্নানোৎসব ও মেলা উৎযাপন কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরী শচিপতি ঠাকুর ও হেমাংশুপতি ঠাকুর, এই স্নানোৎসবের উদ্ধোধন করেন। এসময় পদ্মনাভ ঠাকুর, অমিতাভ ঠাকুর, সুব্রত ঠাকুর ও সুচিপতি ঠাকুর শিবুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ স্নান  চলবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার  বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।

এই উৎসবকে সঠিক ভাবে সম্পন্ন করতে ঠাকুর বাড়ি এলাকায় উচ্চ পর্যবেক্ষণ চৌকি ও সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি মতুয়া সংঘের ৩ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই তিন দিন এখানে আসা মতুয়া ভক্তদেরকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে।

লাখ লাখ মতূয়াভক্ত ও হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের ভক্তরা এখানে স্নান করেন পাপ মোচনের জন্য। স্নানোৎসব উপলক্ষে বসে মহাবারুনী মেলা। এ মেলা চলবে আগামী শনিবার বিকাল পর্যন্ত। মেলায় কুঠির শিল্পের সামগ্রী, বিভিন্ন খেলনা, মাটির জিনিস, বাঁশের জিনিস, তাল পাখা, খাদ্য সামগ্রীসহ নাগর দোলনাসহ শিশুদের বিনোদনের জন্য নানা আয়োজন। বিশেষ করে চিনির তৈরী বিভিন্ন পশু পাখি, শিশুদের খেলনার মিষ্টি।

হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরী কাশিয়ানী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থান ও ভারত, নেপাল এবং শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের মতুয়া ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দিয়ে থাকেন। হাতে বিজয়  ও সত্যের লাল নিশান এবং ডাংখা (বড় ঢোল) বাজিয়ে উলুধ্বনি দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পায়ে হেটে মতুয়া অনুসারীরা ছুটে আসেন তীর্থভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে।

বর্তমানে বাস, ট্রাক, নসিমণ, করিমণ, ইজি বাইক, থ্রি-হুইলার ও নৌ-পথে নৌকা ও ট্রলারে করেও মতুয়াভক্তরা এখানে আসেন। ভক্তরা প্রথমে কামনা ও পরে শান্তি সাগরে (বড় আকৃতির পুকুর) স্নান করে যার যার কামনা বা প্রার্থণা করে থাকেন।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটিকে নিরবিচ্ছিন্ন করতে দুইশত পুলিশ সদস্যের একটি শিপটিং তালিকা তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠান স্থলে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। আগত লোকদের নিরাপত্তা ও অপ্রীতিকর কোন ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিশ বাহিনী সর্বদা কাজ করবে। এছাড়া কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, স্নানোৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেহেতু এখানে বড় ধরনের জমায়েত হয়, সেই কারণে ঠাকুরবাড়ির প্রবেশ পথে ও গুরুত্বপূর্ন স্থানে সিসি টিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।









Leave a reply