স্বাধীনতার ৩ বছর পরে জন্ম নিয়েও মুক্তিযোদ্ধা!

|

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের কাইতলা গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে আবু হানিফ একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানী হিসেবে প্রাপ্য সব সুবিধা ভোগ করছেন তিনি। সন্তানদের সরকারি চাকরিও জুটিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায়। সবই ঠিক আছে। সমস্যা একটাই। আবু হানিফের জন্ম ১৯৭৪ সালের ১০ মার্চ। অর্থাৎ, মুক্তিযুদ্ধের ৩ বছর পর।

আবু হানিফের এমন কাণ্ড তুলে ধরতে গত রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা। আবু হানিফ যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয়, তার বিভিন্ন প্রমাণাদি পেশ করা হয়।

নবীনগর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবু হানিফকে কাইতলা যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তিকালীন তার জন্ম তারিখ ১৯৭৪ সালের ১০ মার্চ লিপিবদ্ধ করা হয়।

এতে বলা হয়, কাইতলা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত আবদু মিয়ার ছেলে মৃত মো. হানিফ পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করার সময় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। একই রকম নামের সুযোগ নিয়ে আবু হানিফের চাচাতো ভাই আবদুল মান্নান কাইতলা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করার সময় আবু হানিফকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

এরপর থেকে আবু হানিফ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মৃত মো. হানিফের এফএফ নং-৪৫৬ ও কল্যাণ ট্রাস্ট নং-৩৩১১২ ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের সব ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন।

২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর মো. হানিফের স্ত্রী আবু হানিফের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে ভাতা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। নবীনগর থানার এসআই মো. শাহ আলম সরকার তদন্ত করে ওই অভিযোগের সত্যতা পান এবং আবু হানিফের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপরও বহাল তবিয়তে আছেন আবু হানিফ।









Leave a reply