ক্রিকেটে বল টেম্পারিংয়ের যত ঘটনা

|

দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে কেপটাউন টেস্টে অজি খেলোয়াড়দের বল টেম্পারিংয়ের ঘটনা নিয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় চলছে।

ইতিমধ্যে অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন স্টিভ স্মিথ, নিষিদ্ধ হয়েছেন পরবর্তি টেস্টের জন্য। সাথে ডেভিড ওয়ার্নারের সহ-অধিনায়কের পদটিও গেছে। দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের সবাই নাকি বল বিকৃতির পরিকল্পনাটি জানেতেন।

অজি অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, তৃতীয় দিন লাঞ্চের সময় তারা এই পরিকল্পনা করেছিলেন।

প্রশ্ন উঠতে পারে এত তোলপাড় পড়ে গেছে, ক্রিকেটে নিশ্চয় এটি একেবারে আনকোরা ঘটনা। এমনটি ভেবে থাকলে আপনি একেবারেই ভুল। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, নেহায়েৎ কম। তবে সাবধান, ভেবে বসবেন না এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে থাকে।

যাই হোক, আসুন দেখে নেই, ক্রিকেটে বল বিকৃতির যত ঘটনা:

মাইক আথারটন (১৯৯৪): দক্ষিন আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে আথারটনকে বল বিকৃতি করায় সাড়ে তিন হাজার ডলারের বেশি জরিমানা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ অধিনায়ক দাবি করেছিলেন, বলে ঘষতে নয়, হাত শুকাতে তিনি মাটি ব্যবহার করেছিলেন।

ওয়াকার ইউনিস (২০০০): শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত একদিনের ম্যাচে বলে সেলাই তুলে ফেলেছিলেন পাকিস্তানের গতি তারকা ওয়াকার ইউনুস। বল বিকৃতির দায়ে তিনিই প্রথম নিষেধাজ্ঞার সাজা পাওয়া খেলোয়াড়। তাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

শচীন টেন্ডুলকার (২০০১): দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের বিরুদ্ধে টেস্টে বল করার সময় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার বলে সেলাইয়ে নখ চালিয়ে ছিলেন। তাকে প্রাথমিকভাবে এক ম্যাচের সাজা দেওয়া হয়েছিল। যদিও আম্পায়ারের অনুমতি ব্যতীত কিন্তু বল পরিস্কারের জন্য তিনি তা করেছিলেন এমন যুক্তিতে পরে তার সাজা মওকুফ করা হয়।

শোয়েব আখতার (২০০৩): একদিনের ম্যাচের একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলংকার বিপক্ষে বলের সেলাইয়ে বুড়ো আঙ্গুল ব্যবহার করেছিলেন পাকিস্তানের গতি দানব শোয়েব আখতার। তাকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ ও তার ম্যাচ ফি’র ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছিল।

রাহুল দ্রাবিড় (২০০৪): জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বলের গায়ে এক ধরনের হলুদ বস্তু (সম্ভবত ললিপপের ভগ্নাংশ) ঘষেছিলেন ভারতের রাহুল দ্রাবিড়। এ জন্য তাকে ম্যাচ ফি’র ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছিল।

মার্কাস ট্রেসকোথিক (২০০৫): অ্যাশেজ জয়ের কয়েক বছর পর ব্রিটিশ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্কাস ট্রেসকোথিক স্বীকার করেছিলেন, ‘মাউথ ফ্রেশনার’ নেওয়ার সময় তিনি অবৈধভাবে বল পালিশ করেছিলেন।

পাকিস্তান (২০০৬): টেস্ট ম্যাচে বলের আকৃতি বদলের দায়ে আম্পায়ার ডারেল হেয়ার ও বিলি ডকট্রভ পাঁচ রান জরিমানা করায় পুরো পাকিস্তান দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ছিল। পরে বিষয়টি মিটমাট করেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ইনজামাম উল হক; এবং আইসিসি’র আম্পায়ারদের এলিট প্যানেল থেকে ডারেল হেয়ারকে প্রত্যাহার করা হয়।

শহীদ আফ্রিদি (২০১০): পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে বল কামড়ানোর জন্য পাকিস্তানের অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদিকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়া (২০১২): অস্ট্রেলিয়া দল বলে সেলাই তুলে ফেলছে এই বিষয়টি ম্যাচ রেফারিকে ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে অবহিত করেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু শেষ অবধি তারা কোনো অফিসিয়াল অভিযোগ জানায়নি।

ফাফ ডু প্লেসি (২০১৩): দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে ট্রাউজারের জিপারে বল ঘষেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিস। এ ঘটনায় তাকে ম্যাচ ফি’র ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছিল।

ভারনন ফিলান্ডার (২০১৪): শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে বলের গায়ে আঁচড় কাঁটায় দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ফিলান্ডারকে ম্যাচ ফি’র ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছিল।

ফাফ ডু প্লেসি (২০১৬): আরও একবার বল বিকৃতির ঘটনা নিজেকে জড়িয়ে ছিলেন ফাফ ডু প্লেসিস। এবার তিনি বলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে মুখে লালা ব্যবহার করেছিলেন, যাতে ছিল মিন্ট। তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে।

এছাড়া, বল বিকৃতির আরও অনেক ঘটনা থেকে যেতে পারে। সেই ঘটনাগুলা হয়তো কোনো দিনই পুরোপুরি আলোর মুখ দেখবে না। কেননা, মাঠে ক্যামেরার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এই সেই দিনকার হলেও ক্রিকেট খেলা কিন্তু শতাব্দী প্রাচীন।

যমুনা অনলাইন: এফএইচ









Leave a reply