৪৭ বছর পর শহীদ পরিবার খুঁজে পেল ঠিকানা ‘রক্তলাল ৭১’

|

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের খারঘর গ্রামে গণহত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল পাকহানাদার বাহিনী। ৭১’র ১০ অক্টোবর খারঘর গ্রামে প্রবেশ করে নির্বিচারে ৪৩ জনকে হত্যা করেছিল তারা। পরে নিহতদের একসঙ্গে খারঘর গ্রামে গণকবর দেয়া হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানের গণকবরগুলোর মতোই খারঘর গণকবরটিও ছিল অরক্ষিত। অযত্ন আর অবহেলার কারণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বয়ে বেড়ানো গণকবরটি। অবশেষে শহীদ পরিবার গুলো ফিরে পেয়েছে ১৯৭১ সালে গণহত্যায় নিহত স্বজনদের ঠিকানা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর র্দীঘ দিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত এই গণকবরটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিল শহীদ পরিবারের স্বজনরা। অবশেষে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর গণকবরটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় জেলা পুলিশ।

গণকবরকে ঘিরে বানানো হয়েছে ‘খারঘর গণকবর স্মৃতিসৌধ ৭১’। স্মৃতিসৌধে মার্বেল পাথরে খোদাই করে লেখা হয়েছে ৪৩ জন শহীদের নাম। আর স্মৃতি সৌধটির চূড়ায় বসানো হয়েছে ‘রক্তলাল ৭১’। স্বাধীনতার মাসে ‘রক্তলাল ৭১’ যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে স্ব-গৌরবে। দূর থেকে চোখে পড়া ‘রক্তলাল ৭১’ জানিয়ে দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদারদের গণহত্যা আর রক্তে কেনা স্বাধীনতার কথা।

পাগলী নদীর তীরবর্তী গ্রাম খারঘরের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে পাক বাহিনীর আক্রমণের ভয় ছিল কম। এজন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখান থেকে কয়েকটি অপারেশনও পরিচালনা করেন মুক্তিকামীরা। তবে নদী পথে জাহাজে করে এসে ১০ অক্টোবর বর্বরোচিত হামলা চালায় হানাদাররা। সেদিন ৪৩ জনকে হত্যা করে তারা।

স্বাধীনতার পরই গণকবরটি সংরক্ষণের জন্য দাবি ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে। পরবর্তীতে এ দাবি হয়ে ওঠে সবার। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ায় গণকবরটি আর সংরক্ষণ হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান গণকবরটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন ‘খারঘর গণকবর স্মৃতিসৌধ ৭১’ করার। দর্শনার্থীদের জন্য লাইটিংয়ের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে স্মৃতি সৌধটি। বৃহস্পতিবার উদ্বোধনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মক্ত করে দেয়া হয় স্মৃতিসৌধটি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল।

স্মৃতি সৌধটি উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্মৃতিসৌধটি একসময় দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠবে উল্লেখ করে জেলার পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান জানান এ স্মৃতি সৌধ নির্মাণের মাধ্যমে গণকবরটি সংরক্ষণের পাশাপাশি আমরা সকল শহীদ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়েছি। পাগলী নদীর তীরবর্তী এ স্মৃতি সৌধটি একসময় পর্যটকদেরকেও আকৃষ্ট করবে।









Leave a reply