গাইবান্ধায় ডায়রিয়ার প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে শতাধিক রোগী

|

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধা পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। একের পর এক ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী আসছে ২০০ শয্যার গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বয়স্ক নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুও রয়েছে।

শুক্রবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে শনিবার (৩১ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত একদিনের ব্যবধানে প্রায় শতাধিক রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্ত রোগীর বেশিরভাগই গাইবান্ধা পৌরসভার ডেভিট কোং পাড়া ও সরকারপাড়ার বাসিন্দা।

শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য মাত্র ২০টি আসন রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন হাসপাতালে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী ভর্তি হওয়ায় জায়গা দেয়া যাচ্ছে না। ফলে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দাতে অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালে ভর্তি নুর আলম সাজু বলেন, ‘হঠাৎ করেই শুক্রবার বিকেল থেকে বমির সাথে পাতলা পায়খানা হয়। পরে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা করেও ভালো হয়নি। বাধ্য হয়ে সকালে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি’।

স্বপ্না নামে এক শিশুর মা বলেন, ‘হঠাৎ করেই তার তিন বছরের শিশুটি বমি করতে থাকে। পরে বমির সাথে দেখা দেয় পায়খানা। ঘনঘন বমি ও পায়খানার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। হাসপাতালে ভর্তির পর স্যালাইন দিয়েছে কিন্তু এখনো কোন উন্নতি হয়নি’।

গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এসআইএম শাহীন বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ জন রোগী। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আরও ভর্তি হয়েছেন ২১ জন রোগী। এরমধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৪৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। হঠাৎ করে ডায়রিয়া পরিস্থিতি সামাল দিতে রোগীদের ঔষধ ও স্যালাইনসহ সব ধরণের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে’।

গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক ডা. অমল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধির প্রাথমিকভাব কারণ হিসেবে পানি দূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে পৌর এলাকার গভীর নলকুপ ও স্পালাইয়ের পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য ঢাকা থেকে আসা আইসিডিডিআর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘ডায়রিয়া পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত বেডসহ বেশ কিছু প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। হাসপাতালে ঔষধ, স্যালাইনের কোন সংকট নেই। তবে এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে ফুটান্ত পানি করা ও খাবারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতায় শহরে লিফলেট ও মাইকিং করা হচ্ছে’।

গত বুধবার থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক রোগী। পাশাপাশি তিনদিনে বর্হি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও শতাধিক রোগী। এছাড়া নিজনিজ বাড়ী ও স্থানীয়ভাবেও আরও অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।









Leave a reply