দ্রুত ধান কাটতে আধুনিক যন্ত্র চায় হাওরের কৃষকরা

|

কামাল হোসাইন, নেত্রকোণা

নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি বছর বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কোনো প্রকার দুর্যোগের কবলে না পরলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন কেউ কেউ।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবছর নেত্রকোণায় বোরোর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লক্ষ ৮১ হাজার ২৩৮ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৩০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমি বেশি আবাদ হয়েছে। আর হাওরাঞ্চলে বোরোর আবাদ হয়েছে ৪১,০১০ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকের কষ্ট স্বার্থক হতে পারে এবছর।

নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলায় মোট ৩ শো কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ রয়েছে। যার ১ শো কিলোমিটারের মতো অংশে এলজিইডি ও সড়ক বিভাগ তাদের রাস্তা নির্মাণ করেছে। বাকি অংশের ৮৫-৯০ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য এবছর সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ১৬ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা। পিআইসি কমিটির মাধ্যমে ইতিমধ্যে বাঁধের কাজও সমাপ্ত হয়েছে।

এরইমধ্যে মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা সহ বড় বড় বেশ কয়েকটি হাওরে বোরো ফসল কাটতে শুরু করেছে কৃষক।

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেথুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, হাওরে বোরোর ফলন খুব ভালো হয়েছে। ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে পারলে গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

খালিয়াজুরী উপজেলার বোয়ালী গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া জানান, ধান পাকতে শুরু করেছে। টুকটাক ধান কাটা চলছে। এক সপ্তাহ পরে ধান কাটা শুরু হবে। আগাম বন্যা না এলে এবার ফসল ঘরে উঠবে।

খালিয়াজুরী উপজেলার খালিয়াজুরী গ্রামের কৃষক রহমত আলী জানান, আমি এবার বাইশ একর জমিতে বোরোর আবাদ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। যদি কৃষকরা ন্যায্য ধানের মূল্য পায় তাহলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে নিতে পারবে। কিছু কিছু উঁচু জমিতে ব্রী ২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাাহের মধ্যে পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হবে।

খালিয়াজুরী উপজেলার খালিয়াজুরী প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, বিশাল হাওরে এক সাথে ধান পাকার ফলে আমরা প্রতিবছর শ্রমিক সংকটে ভুগি। একদিকে আগাম বন্যার ভয় অন্যদিকে শ্রমিক সংকট। এজন্য প্রতি বছর চোখের সামনে আমরা পাকা ধান বন্যার পানিতে ভেসে যেতে দেখি। এই মূহুর্তে যদি হাওরে সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র সরবরাহ করা হয় তাহলে কৃষক নিশ্চিন্তে তাদের স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে পারবে।

নেত্রকোণা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলাশ চন্দ্র পাল জানান, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে হাওরাঞ্চলে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হবে। এবছর ফলন ভালো হয়েছে। হাওরের বাঁধ নির্মাণে কোনো প্রকার গাফিলতি পরিলক্ষিত হয়নি। আশা করছি কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হবে।

নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আক্তারুজ্জামান জানান, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পিআইসি কমিটি করা হয়েছে। প্রত্যেকটা কমিটিতে জমির মালিক, স্থানীয় এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ নিয়মমাফিক করাসহ সঠিক তদারকির মাধ্যমে শতভাগ কাজ আদায়ে চেষ্টা করা হয়েছে। সবার সহযোগিতায় বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। বড় ধরণের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবছর কৃষকের বোরো ফসল সুন্দর ভাবে ঘরে উঠবে।

নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, বিশাল হাওরে একসাথে বোরো ধান পাকে তাই আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র দিয়ে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে এবিষয়ে কথা বলে কৃষকদের সহযোগিতার করার চেষ্টা করছি।









Leave a reply