রোগীর ভিড়ে স্থান মিলছে না বারান্দাতেও

|

ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরী বিভাগ পার হয়ে ওয়ার্ডে প্রবেশের সময় প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি কোন শরণার্থী শিবির। ওয়ার্ড গুলোতে তিল রাখার জায়গা নেই আর বারান্দায় রোগীদের দীর্ঘ সারির মধ্য দিয়ে পা ফেলে হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর। তীব্র গরম কিংবা ঝড় বৃষ্টির মাঝেই চরম দুর্ভোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন এখানকার রোগীরা।

অতিরিক্ত রোগীর চাপ আর জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। রোগীর ভিড়ে স্থান মিলছে না বারান্দাতেও। চাপ সামলাতে পরিচালকের অর্থায়নে চালু হয়েছে ওয়ানস্টপ সার্ভিস। তারপরও প্রকট অবকাঠামো সমস্যা।

এদিকে সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের মাত্রা অতিরিক্ত ভীর ব্যহত করছে চিকিৎসা সেবা।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল মতিন কিডনির রোগে ভুগছেন। কিন্তু শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় ঠাঁই হয়েছে তার। আর তার চিকিৎসা কাজে সহায়তার জন্য আসা স্বজনদের সংখ্যা ছয়জন।

এই ওয়ার্ডের সহকারী রেজিষ্ট্রার ডাক্তার সৈয়দ হাসান আকাশ জানান, তার ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ২৪ টি। তবে সব সময় গড়ে দুইশজন চিকিৎসা নিতে ভর্তি থাকে এখানে। এর সাথে রোগীর স্বজনদের বাড়তি চাপের কারণে লোকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ছয়শ। এই ভীর ঠেলে রোগী দেখতে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে পরতে হয় ডাক্তারদের।

এদিকে রোগীর স্বজনদের চাপ সামলাতে হাসপাতালে চালু কর হয়েছে ডিজিটাল এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম। রোগী ভর্তির সময় তার একজন স্বজনকে দেয়া হয় একটি এক্সেস কার্ড। এই কার্ড দিয়ে ওয়ার্ডের দরজা খুলে প্রবেশ করতে হয়।

মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ খান বলেন, এই সিস্টেম চালুর কারণে ধীরে ধীরে ভীর কমছে তবে লোকবল সংকট এখানে চরম আকার ধারণ করেছে। কাঙ্খিত সেবা তাই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে নিয়মিত রোগী ভর্তি থাকে প্রায় তিন হাজার। তবে জনবল রয়ে গেছে পাঁচশ শয্যার হাসপাতালের। রোগীর চাপ সামলাতে পরিচালকের নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই হাসপাতালে চালু করা হয়েছে ওয়ানস্টপ সার্ভিস।

ওয়ানস্টপ সার্ভিসের ইনচার্জ ডাক্তার মোহাম্মদ তারিকুর ইসলাম খান জানান, আগে কোন রোগী জরুরী বিভাগে আসার পর একজন চিকিৎসক তাকে দেখে ওয়ার্ডে ভর্তি করে দিতেন। তবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর পর রোগীদের এখানেই দেয়া হচ্ছে চিকিৎসা। রয়েছে পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা ও ডে কেয়ার সেন্টারে রেখে পর্যবেক্ষণের সুযোগ। এরপর রোগীর শারীরীক অবস্থা দেখে প্রয়োজনে ভর্তি করা হয় আর নাহলে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়। এতে ওয়ার্ডে রোগী ভর্তির চাপ কমছে। ওয়ানস্টপ সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন এই চিকিৎসক।

তবে হাসপাতালে প্রকট আকারে সংকট দেখা দিয়েছে অবকাঠামোর। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ, জানান, অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো তা পাওয়া যায়নি। রোগীর চাপ বেশি থাকলেও হাসপাতালের বাড়তি কোন বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না। হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রোগীর চাপ সামলাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এদিকে রোগীর চাপ বেড়েছে হাসপাতালের বর্হিরবিভাগেও। ৪২ জন চিকিৎসক প্রতিদিন সেবা দিচ্ছেন গড়ে প্রায় ৬ হাজার রোগীকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, সম্প্রতি লন্ডন ভিত্তিক একটি জার্নাল প্রকাশ করে বাংলাদেশে ডাক্তাররা তার রোগীকে ৪৮ সেকেন্ড সময় দেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে রোগীর চাপ এতোই বেশি থাকে যে একজন ডাক্তার তার রোগীকে দেখতে অনেক কষ্ট করে ৪৮ সেকেন্ড সময়ই পান।

ভুক্তোভোগীদের দাবি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেহেতু ময়মনসিংহের আশেপাশের আরও পাচটি জেলার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে সেহেতু এই হাসপাতালের দিকে সরকারের নজর দেয়া উচিৎ।









Leave a reply