কৃষি জমি দখল করে গড়ে উঠা ইটভাটায় প্রশাসনের সিলগালা

|

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নিয়মনীতি না মেনেই কৃষি জমি দখল করে জনবসতি এলাকায় গড়ে উঠা মা-বাবার দোয়া ব্রিক্সস নামে একটি ইটভাটা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এসময় ইটভাটায় নোটিশ টাঙিয়ে অফিস রুমে সিলগালা করা হয়।

বুধবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমির হামজা অভিযান চালিয়ে ওই ইটভাটা বন্ধ করে দেন। এসময় সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ ও গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট অভিযানে অংশ নেয়।

null

সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পশ্চিম শিবরাম গ্রামে চারপাশে ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকা। সেই ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকার মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মা-বাবার দোয়া ব্রিক্সস নামে ইটভাটার নির্মাণ করেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এমদাদুল হক। ইটভাটা নির্মাণে কোন নিয়ম না মেনে বেশ কিছু মালিকানাধীন কৃষি জমি দখল করার অভিযোগ উঠে। জমি মালিকদের না জানিয়ে জোরপূর্ববক জমি দখলে নেয় ভাটা মালিক। শুধু তাই নয়, অন্য এলাকার জমির কাগজপত্র দেখিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও কৃষি অফিসের ছাত্রপত্র দেখিয়ে ভাটা নির্মাণ করেন এমদাদুল হক।

স্থানীয় জমি মালিক মতিয়ার রহমানের অভিযোগ, ভাটা নির্মাণে বাঁধা দিলে তাদের হুমকি-নির্যাতন করা হতো। ভাটা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে স্থানীয় প্রশাসন বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মেলেনি। জনবসতি ও কৃষি জমিতে গড়ে উঠা ইটভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হলে ক্ষতির মুখে পড়ে এলাকার কৃষকরা। ইটভাটায় অবাধে ট্রাক ও শ্যালোইঞ্জিন চালিত যান চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাঁচা-পাকা রাস্তাও। এছাড়া ইটভাটার ধোয়া ক্ষতি হতে থাকে এলাকার পরিবেশ। পরে বাধ্য হয়ে উচ্চ আদালতে ভাটা বন্ধের আবেদন করা হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ভাটা বন্ধ হয়েছে’।

null

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমির হামজা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জমি দখল ও কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভূক্তভোগীরা উচ্চ আদালতে ভাটা বন্ধের আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশ ভাটা বন্ধ করে অফিস রুম সিলগালা করা হয়। আইনী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইটভাটা সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নোটিশ টানিয়ে দেয়া হয়’।

null

এদিকে ভাটা বন্ধ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে জমি মালিকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে। তবে আর যেন ইটভাটাটি চালাতে না পারে সে ব্যাপারে প্রশাসনকে সজাগ থাকার দাবি এলাকাবাসীর।









Leave a reply