কৃত্রিম সংকটে লাগামহীন চালের বাজার


বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতিদিন বাড়ানো হচ্ছে চালের দাম। অতিমুনাফার পাশাপাশি সরকারের শুল্কছাড়ের সুবিধাও ভোগ করছেন ব্যবসায়ীরা, এমন অভিমত বিশ্লেষকদের। বাজারে স্বাভাবিক করতে সরকারি মজুত বাড়ানো ও মুনাফাখোরদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা। যদিও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

চালের বাজার প্রথম দফায় অস্থির হয় গত এপ্রিলে। হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যায় ক্ষতি হয় বোরো ফসলের। কয়েক মাসের মাথায় উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বন্যা, আবারও ফসলহানি। দুর্যোগের অনিবার্য পরিণতি হিসেবেই যেন বাড়তে থাকে চালের দাম। গত চার মাসে দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, নওগার মোকামগুলোতে বস্তা প্রতি চলের দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। বাজার ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে ভোক্তাপর্যায়ে কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ৯ থেকে ১০ টাকা।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে শুরু থেকেই সরবরাহ সংকটের কথা বলে আসছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও আড়তগুলোর চিত্র দেখে তা মনে হয়নি কখনও। বাজার স্বাভাবিক রাখতে চালের আমদানি শুল্ক ২৬ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। কিন্তু এতে দামতো কমেইনি, উল্টো বেড়েছে। এসবের মাঝে গুজব ছড়ানো হয়, চাল রফতানি বন্ধ করেছে ভারত। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দামে।গুজবের ফায়দা লুটেছে মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা।

ক্যাব সভাপতি, গোলাম রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা যখন দেখলো চালের বাজারে হস্তক্ষেপ করার সামর্থ সরকারের নেই, তখন থেকেই তারা দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি করছে। এটা একটা কৃত্রিম সংকট।

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ব্যবসায়ীরা জানেন যে সরকারের কাছে চাল নেই, দ্রুত বড় পরিসরে ওএমএস কার্যক্রম শুরু করা যাবে না, তাই তারা এ সুযোগটা নিতে শুরু করলো। যতক্ষণ না সরকার কমদামে চাল নিয়ে আসতে পারবে, ততক্ষণ তারা এ সুযোগ নিতে থাকবে।

কৃত্রিম সংকট সামাল দিতে সরকারের তদারকি বহুগুণ বাড়াতে হবে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা।

খাদ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, শুল্ক কমানো ও পর্যাপ্ত আমদানি সত্ত্বেও চালের দামের এই ঊর্ধ্বগতি মোটেই স্বাভাবিক নয়। সবই মজুতদারের কারসাজি। আর চালের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির মূল হোতা উল্লেখ করে রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীর প্রতি বিষেদগার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বলেন, ‘অতিরিক্ত মজুত করে তারা বাজারে কারসাজি করছে। চালকল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের রাজনৈতিক পরিচয় বিএনপি- জামাত’। দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যদিও বাংলাদেশ রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীর দাবি, ‘সরকারের মজুত করার আইন আছে। আইন মেনেই মজুত করছি আমরা। আইন বহির্ভূতভাবে কেউ মজুত করে তাহলে সরকার দেখবে। নিয়মের মধ্যে মজুত থাকলে সরকার জরিমানা করার এখতিয়ার রাখেন না।
বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই, কুষ্টিয়ায় আব্দুর রশিদের গুদামে অভিযান চালিয়েছে টাক্সফোর্স। এরআগে গত সপ্তাহে আবদুর রশিদর গুদামে অতিরিক্ত চাল মজুদের সন্ধান পায় টাস্কফোর্স। তখন তাকে জরিমানাও করা হয়েছিলো।

২০১৩ সালের মজুত আইনে বলা হয়েছে, মিল ও আড়তে চালের মজুতের পরিমাণ জানাতে হবে সরকারকে। কিন্তু গত চার বছরে একটি তথ্যও আসেনি খাদ্য অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রণালয়ে। চালের পর্যাপ্ত মজুত নেই সরকারের গুদামেও। এমন পরিস্থিতিতে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারকে যেকোনোভাবে মজুত বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববার থেকে ওএমএস’র মাধ্যমে সকল বিভাগীয় ও জেলা শহরে চাল বিক্রির শুরু করেছে সরকার যেখানে, ১৫ টাকা দরে চাল এবং ১৭ টাকা করে আটা ক্রয় করতে পারবে সাধারণ মানুষ।

যমুনা অনলাইন: টিএফ

 









Leave a reply