‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ শচীনের জন্মদিন আজ

|

শচীন টেন্ডুলকারের জন্মদিন আজ।

‘গড অফ ক্রিকেট’ কিংবা ‘দ্য লিটল মাস্টার’ শচীন টেন্ডুলকারের ৪৯তম জন্মদিন আজ। ৫১টি টেস্ট সেঞ্চুরিসহ এই ক্রিকেট ঈশ্বরের রয়েছে একশ আর্ন্তজাতিক সেঞ্চুরি। আধুনিক ক্রিকেটে সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রিকেট চরিত্র দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জড়াননি কোনো বিতর্কে। যমুনা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে লিটল মাস্টারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

মারাঠী ভাষার কবি বাবা রমেশ টেন্ডুলকার ছিলেন বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক শচীন দেব বর্মনের ভক্ত। তাই মধ্যবিত্ত পরিবারে ছেলে জন্ম নিলে সন্তানের নাম রেখেছিলেন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। শৈশব থেকেই ব্যাট-বলকে ধ্যানজ্ঞান বানানো শুরু শচীনের। ক্রিকেট খেলার প্রতি আগ্রহ দেখে ১৯৮৪ সালে শচীনের বড় ভাই অজিত টেন্ডুলকার ছোটভাইকে শিবাজী পার্কে নিয়ে গেলেন রমাকান্ত আচরেকরের কাছে ক্রিকেট শিক্ষার জন্য।

বিশ্বকাপজয়ী শচীন। ছবি: সংগৃহীত

এর পরের গল্পটা স্রেফ ইতিহাস, যে অধ্যায়ের পর আর একই থাকেনি ক্রিকেট। থাকেনি কোটি কোটি মানুষের মনে এই খেলা নিয়ে অনুরাগের প্রাবল্য। ১৯৮৮ সালে মুম্বাইয়ের হয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় শচীনের। সেই ম্যাচেই মাত্র ১২৯ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নজর কেড়েছিলেন সকলের। ১৬ বছর বয়সেই শচীনের অভিষেক হয় ভারতের জাতীয় দলে। ওয়াকার-আকরাম-ইমরানদের ভয়ঙ্কর পেস অ্যাটাকের বিরুদ্ধে দারুণ সাবলীল ছিল তার ব্যাট; সেই শুরু। মোট ২০০টি আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচে শচীনের রান ১৫ হাজার ৯২১। এছাড়াও ৪৬৩ টি ওডিআই ম্যাচে ১৮ হাজার ৪২৬ রানের সংগ্রহ আছে এই লিটল মাস্টারের ঝুলিতে। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া আসর মিলিয়ে ২৪১টি সেঞ্চুরির মালিক তিনি। বলাই বাহুল্য, এসবই বিশ্ব রেকর্ড। শচীনের হাত ধরেই যা প্রথমবারের মতো দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব।

ভারতে অন্যান্য ধর্মের মতো ক্রিকেটও একটি ধর্ম, যার দেবতা মানা হয় শচীনকে। তাই তো শচীনকে বলা হয় ‘গড অফ ক্রিকেট’। তিনিই ভারতের প্রথম ক্রীড়াবিদ যিনি ভারতরত্নের অধিকারী। এছাড়াও পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ, রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরষ্কার, অর্জুন পুরস্কার তো আছেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার কারণে এখন ভক্তরা এই ক্রিকেট দেবতার খেলা প্রায়ই মিস করেন।

নব্বইয়ের দশকে হতো না প্রতি ম্যাচে ৩০০ এর বেশি রান। ছিল না ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতা। দুই প্রান্ত থেকে ছিল না নতুন বল। আউটফিল্ড ছিল না এখনকার মতো দ্রুতগতির। যখন ফ্রি হিট বা ফ্ল্যাট পিচের মতো ব্যাটিং বান্ধব সুবিধার প্রবর্তনই হয়নি; তখন অ্যামব্রোস, ওয়ালশ, ওয়াসিম, ওয়াকার, ম্যাকগ্রা, ডোনাল্ড, পোলকদের সামলে অভিষেকের পর থেকেই স্পোর্টিং উইকেটে দাপুটে বোলারদের বিরুদ্ধে খেলে গেছেন শচীন। দাপুটে মারকাটারি ব্যাটিংয়ের সাথে ছিল নিখুঁততম টেকনিক। শৈলী ও আগ্রাসনের মিশেলে মাঝারী মানের ভারতীয় দলের হয়ে ১০০ কোটি মানুষের চাপ নিয়ে নিয়মিত চূড়ান্ত ফর্মে খেলে গেছেন এই মাস্তার ব্লাস্টার। উপহার দিয়েছেন শারজাহতে মরুঝড়, যাকে ক্রিকেটপ্রেমীরা এখনও ‘ডেজার্ট স্টর্ম’ নামেই মনে রেখেছে। মুড়িমুড়কির মতো রেকর্ড তো বটেই, শতকোটি মানুষের স্বপ্ন ও আশাকে নিজের কাঁধে চাপিয়ে যখন মাঠে নামতেন এই ব্যাটার, প্রার্থনায় বসতো লাখো কোটি ভক্ত। সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি কিংবা ৩৪ হাজারের উপরে রান তো বটেই, ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটের ভদ্রতা ও বিনয়ের চূড়ান্ত সুন্দর প্রতিচ্ছবির জন্যও কবি ও ঔপন্যাসিকের সন্তান টেন্ডুলকারের শ্রেষ্ঠত্ব প্রাপ্য। ম্যাথু হেইডেন যাকে নিয়ে বলেছিলেন, আমি ঈশ্বরকে দেখেছি, তিনি ভারতের হয়ে ৪ নম্বরে ব্যাট করেন।

৪৯ বছর বয়সে পা রেখেছেন এই গড অফ ক্রিকেট। তাইতো প্রিয় তারকাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ব্যস্ত শচীন ভক্তরা। শুভ জন্মদিন দ্য লিটল মাস্টার।

/এম ই


সম্পর্কিত আরও পড়ুন




Leave a reply