হবিগঞ্জে বজ্রপাতে এক মাসে ১৭ জনের মৃত্যু

|

চলতি বোরো মৌসুমে বজ্রপাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে গত এক মাসে ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন কৃষিশ্রমিক, অপর একজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে।

পুরুষ কৃষিশ্রমিকরা হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়ে এবং একজন নারী (গৃহবধূ) বাড়ির উঠানে ধান মাড়াইয়ের সময় প্রাণ হারান।

জেলায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে বানিয়াচং উপজেলায়। শুধু এ উপজেলায়ই ১০ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে বজ্রপাতের এমন ভয়াবহতায় কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানেই ধানকাটার শ্রমিকের সংকট দেখা দিচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও ফসল ঘরে তোলা নিয়ে কৃষকদের মাঝে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

বজ্রপাতে বানিয়াচং উপজেলায় নিহতরা হলেন- জাতুকর্ণপাড়া মহল্লার শামছুল হক (৩৮), মাটিকাটা গ্রামের রুবেল মিয়া (১৮), পৈলারকান্দি গ্রামের আমির আলী (৩৫), হিয়ালা গ্রামের মঈন উদ্দিন খাঁ (১১), দৌলতপুর গ্রামের অধীর বৈষ্ণব (২৭), বসু বৈষ্ণব (৩২), মুরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা জোবায়ের মিয়া (৩২), ভল্লবপুর গ্রমের শাহীন মিয়া (২৫), বাশিয়াপাড়া গ্রামের মো. আজিম উদ্দিন (৪০) ও মুরারআব্দা গ্রামের রনধীর চন্দ্র দাশ ( ৪৫)।

লাখাই উপজেলায় নিহত হয়েছেন- সুজন গ্রামের আপন মিয়া (৩০) ও রুহুল মিয়া (৬০)।

বাহুবল উপজেলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- সুয়াইয়া গ্রামের রাজু মিয়া (৩০), উত্তর ভবানীপুর গ্রামের মো. আবুল কালাম (৩৫)।

নবীগঞ্জ উপজেলার রোকনপুর গ্রমের আব্দুল জব্বার (৫৫) ও চুনারুঘাট উপজেলার দেওড়গাছ ইউনিয়নের জোয়ালভাঙ্গা গ্রামের সুজন মুডা (২৭), তাউসী গ্রামের গৃহবধূ হেনা বেগম নামে এক গৃহবধূ বজ্রপাতে মারা যান।

হেনা বেগম তাউসী গ্রামের সোহেল মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার সময় তিনি বাড়ির উঠানে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছিলেন। চা-শ্রমিক সুজন মুডা নবীগঞ্জের হাওরে ধান কাটতে গিয়ে মঙ্গলবার বজ্রপাতে নিহত হন।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর জানায়, গত ৪ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশ কৃষিশ্রমিক। চলতি বোরো মৌসুমে হাওরে ধানকাটারত অবস্থায় এসব শ্রমিক মারা যান।

তিনি জানান, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সরকারি সাহায্য দেয়া হয়েছে।

এদিকে বজ্রপাতে ঘন ঘন কৃষিশ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় হাওরে কৃষিশ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক শ্রমিক ঝড়বৃষ্টি দেখলে হাওরে ধান কাটতে যেতে চান না ফলে শ্রমিকের সংকট দেখা দিচ্ছে। এতে বোরো ফসল কাটা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।









Leave a reply