৬১ বছরের ইতিহাস পাল্টে দিয়ে মাহাথিরের জয়

|

৯২ বছর বয়সে নির্বাচনে বিরোধী জোটকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছেন মালয়েশিয়ার কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ মাহাথির মোহাম্মদ। বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাশনাল জোটকে পরাজিত করে ৬১ বছরের ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন এই ‘বুড়ো’! ১৯৫৭ সালে মালয়েশিয়া স্বাধীন হবার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত সব সময়ই ক্ষমতায় ছিলো ইউএমএনও; মাহাথিরও এই দলের হয়ে ২২ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সর্বশেষ অন্য কয়েকটি দলের সাথে মিলে ইউএমএনও ‘বারিসান ন্যাশনাল’ জোট গঠন করে। এবারই প্রথম মাহাথির ও আনোয়ার ইব্রাহিমের দলের জোটের কাছে হেরে গেল ক্ষমতাসীন ইউএমএনও।

মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন জোট পাকাতন হারপান ১২৩ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। আর বারিসান পেয়েছে ৭৬টি আসন। বাকি আসনগুলো পেয়েছে অন্যান্য দল। ২২২ আসনের পার্লামেন্টে ১১২ আসন পেলেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভোটের হিসাবে হারপান পেয়েছে ৪৫ শতাংশ, আর বারিসান পেয়েছে ৩১ শতাংশ। ১৫ শতাংশ গেছে পিএএসের ঝুলিতে।

বিজয়ী হওয়ার পর মাহাথির বলেছেন, ‘আমরা প্রতিশোধ নয়, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাই।’

এর আগে ফল ঘোষণায় নির্বাচন কমিশনের গড়িমসির প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেন মাহাথির মোহাম্মদ। রাত সাড়ে ১১টায়ই তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। কিন্তু নাজিবের সরকার ফলাফল ঘোষণায় গড়িমসি করছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ বরেন,‘আমাদের কাছে খবর এসেছে ইতমধ্যে ১১২ আসনের বেশি পেয়েছি আমরা। মনে হচ্ছে ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছু হাঙ্কিপাঙ্কি করার চেষ্টা চলছে।’

মাহাথির ও রাজাক নিজ নিজ আসনে জয় পেয়েছেন। জিতেছেন কারাবন্দি বিরোধী দলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের স্ত্রী ওয়ান আজিজাহও। ক্ষমতাসীন দলের ঘাঁটি বলে পরিচিত অনেক আসনে জয় পেয়েছেন বিরোধী প্রার্থীরা। এছাড়া বেশ কয়েকজন মন্ত্রী বিরোধী প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

বৃদ্ধ বয়সে মাহাথিরের পক্ষে ভোটের জোয়ারকে ‘মালয় সুনামি’ বলে অভিহিত করছে সংবাদমাধ্যম। জোটের জয় নিশ্চিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন তিনিই, যা হবে বিশ্বে স্মরণকালের রেকর্ড। এত বয়সে সাম্প্রতিক ইতিহাসে কেউ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জয়লাভ করেননি।

এদিকে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, নাজিব রাজাক বুধবার রাতের নির্ধারিত প্রেস কনফারেন্স স্থগিত করে বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে গেছেন।









Leave a reply