পুকুর থেকে বের হচ্ছে রক্ত পানি?

|

মোজাম্মেল হোসেন মুন্না, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ঠারুন তলায় একটি পুকুর থেকে লাল রংয়ের পদার্থ বের হচ্ছে। এটিকে ওই এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) সম্প্রদায়ের লোকেরা রক্ত বলে দাবী করছে। সেখানে একটি গাছে তাদের দেবতা রয়েছে বলে দাবী করে পূঁজা দিচ্ছে। এটি অলৌকিক নাকি লৌকিক এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। উৎসুক জনগনের ভিড়ও ক্রমাগত বাড়ছে।

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের জিকাবাড়ি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঠারুনতলা নামক স্থানে রাস্তার পাশের একটি পুকুরে মাটির নিচ থেকে অলৌকিক ভাবে রক্ত বের হচ্ছে বলে সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) সম্প্রদায়ের লোকজন দাবী তুলেছে। গত শনিবার (৫ মে) সকাল থেকেই শত শত উৎসুক হিন্দু-মুসলমান ওই স্থান দেখতে ভীড় করছে।

গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অলৌকিক ঘটনা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ওই পুকুর ও রাস্তায় আগরবাতি জ্বালিয়ে দিয়ে ঢাক ঢোল বাজায়। সেই সাথে অনেকেই দেন পুঁজা । একটি মরা আমড়া গাছকে (গায়ে) লাল সালু (লাল কাপড়) দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে। তাদের দাবী এখানে দেবতা রয়েছে। উৎসুক জনতা ভীড় করে তা দেখছে।

স্থানীয় জনতার মধ্যে এই স্থান নিয়ে দীর্ঘ দিনের অনেক অলৌকিক গল্প রয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর তৎকালিন চেয়ারম্যান ঠাকুনতলা পুকুরের উপর দিয়ে ডোমরাকান্দি-গোয়ালগ্রাম রাস্তাটি নির্মাণ করেন। রাস্তার কোথাও কিছু না হলেও ঠাকুনতলায় ৪০/৪৫ ফুট রাস্তা ভেঙ্গে বসে যায়।

ঠাকুনতলা গ্রামের প্রমথ বিশ্বাস, চিত্ত রঞ্জন বিশ্বাস, বিভূতি বিশ্বাস জানান, রাস্তাটির ভাঙ্গা অংশ ১৫ থেকে ২০ বার শক্ত ভাবেই মাটি কেঁটে ঠিক করা হয়েছে। কোনভাবেই ভাঙ্গা ঠেকানো যায়নি রাস্তাটির। মাটি কোথায় ডেবে যায় তাও বোঝা যায় না। আমরা অনেক বার ওই স্থানে মাটি কাটতে দেখেছি। তবে মাটি কোথায় চলে যায় তা আমরা বুঝতে পারি না বলে জানান স্থানীয় জনগন।

মাহমুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা জানান, স্থানটিতে অনেকবার মেরামত করা হয়েছে, কিন্তু মাটি থাকে না এমন কথা এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানতে পেরে দেখতে এসেছি। আমি একজন বাস্তববাদী মানুষ হয়েও আমিও কেন জানিনা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি যে এখানে অলৌকিক কিছু আছে।

ঘটনা অলৌকিক বা লৌকিক, যাই হোকনা কেন, কেউ যাতে এটিকে পুঁজি করে ব্যবসা ফাঁদতে না পারে তার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন এমনটি প্রত্যাশা করেন এলাকার সচেতন মহল।









Leave a reply