ভালো আছে সেই তোফা-তহুরা

|

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা

অপারেশনের মাধ্যমে আলাদা করা গাইবান্ধার বিস্ময়কর দুই শিশু তোফা-তহুরা এখন ভালো আছে। তারা দুজনে খেলছে-খাচ্ছে। তোফা-তহুরার বাড়িতে সোলার, বিদ্যুত সংযোগের পর এবার নানার বাড়িতে আলাদা ঘর করে দেয়া হচ্ছে। তাদের উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য আলাদা ঘরের উদ্যোগ নিয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।

তোফা-তহুরার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার সময় আলাদা ঘর করে দেয়ার বিষয়টি এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম গোলাম কিবরিয়া।

এসএম গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘জন্ম নেয়ার পর থেকেই তোফা-তহুরার পাশে ছিলো স্থানীয় প্রশাসন। সবসময় তাদের দেখভাল করে আসছে প্রশাসন। শিশু তোফা-তহুরার নানার বাড়িতে দেয়া হয় সোলার ও বিদ্যুৎ সংযোগ। সেই সাথে তাদের জন্য দেয়া হয় ফ্যানও। কিছুদিন আগেও চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাওয়ার খরচ হিসেবে আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। তবে এবার সুবিধা মতো বেড়ে উঠার জন্য নানার বাড়িতে শিগগিরই তোফা-তহুরার আলাদা ঘর করে দেয়া হবে’।

সরেজমিনে তোফা-তহুরার নানার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় মা শাহিদা বেগমের সাথে। শাহিদা বেগম বলেন, ‘তোফা-তহুরা এখন ভালো আছে। তারা দুজনে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবারও খাচ্ছে। এছাড়া দুজনে খেলছে ও বাড়ির উঠানে বাশ ধরে হাটাও শিখছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তহুরাকে ক্যাথেটার দিয়ে তিন ঘন্টা পরপর প্রসাব করাতে হয়। তবে তহুরা এখনো ভুগছে মূত্র জটিলতায়। সেটাও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এছাড়া আর কোন সমস্যা নেই’।

তিনি আরও বলেন, ‘তোফা-তহুরার শারীরিক সমস্যাসহ যে কোন বিষয়ে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করি। তারপর তাদের পরামর্শে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের কাছে যোগাযোগ করি। তবে সব মিলে এখন দুজনে ভালো আছে। ঈদের পর তোফা-তহুরার বাকী দুটি অপারেশন করার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক। তোফা-তহুরার জন্মের আগ থেকেই বাবার বাড়িতে থাকছেন তিনি। দরিদ্র বাবার ঘরেই কষ্ট করে থাকতে হয় তোফা-তহুরাকে নিয়ে। তোফা-তহুরার সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠার জন্য আলাদা ঘর থাকলে ভালো হতো। তাই তাদের জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একটি আলাদা ঘরের দাবি জানিয়েছেন তিনি’।

তোফা-তহুরার নানা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তোফা-তহুরার জন্ম নেয়ার ছয় মাস আগে বাড়িতে আসেন মেয়ে শাহিদা বেগম। তাদের বাড়ি থেকেই ঢাকায় নিয়ে গিয়ে অপারেশন করা হয় তোফা-তহুরার। অপারেশন শেষে আবারও তার বাড়িতেই ফিরে আসেন তোফা-তহুরা। সন্তান জন্ম, অপারেশন আর দীর্ঘ সময় শাহিদা বেগম বাবার বাড়িতে থাকলেও স্বামী সাজু মিয়া তাদের কোন খোঁজ-খবর নিচ্ছেন না। তিনি দরিদ্র হওয়ায় বাড়িতে শুধু দুটি ঘর আছে। একটি ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে অপর ঘরে ছোট ছেলে থাকে। ছোট ছেলের ঘরেই তোফা-তহুরাকে নিয়ে থাকেন শাহিদা বেগম। একই ঘরে তোফা-তহুরা, মেয়ে শাহিদা বেগম ও ছোট ছেলে থাকছেন। এক সঙ্গে থাকতে গিয়ে তোফা-তহুরার অনেক সমস্যা হয়। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন তোফা-তহুরার পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এজন্য সরকার ও প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তবে তোফা-তহুরার বেড়ে উঠার জন্য আলাদা ঘরের দাবি জানিয়েছেন। তাছাড়া দুজন বড় হওয়াসহ তাদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যহত থাকার দাবি জানান তিনি’।

২০১৬ সালের ১ আগষ্ট দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের এ অর্জণ ভোলার নয়। জোড়া লাগা কোমড়ের দুই শিশুকে সুস্থ রেখেই আলাদা করেছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর মেডিকেল থেকে ফিরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাশদহ গ্রামের নানার বাড়িতে আছে তারা। বাড়ী ফেরার এক মাস পর হঠাৎ করেই জ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো তোফা-তহুরা। এছাড়া তহুরা ঘনঘন প্রসাব করাসহ কিছুই খাচ্ছিলো না। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ৮ অক্টোবর তাদের ঢাকায় নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে আবারও নানার বাড়িতে ফিরে আসে তারা।









Leave a reply