স্বপ্ন পূরনের ঘর পেল এক’শ পরিবার

|

শফিক ছোটন, নওগাঁ:

পাটকাঠি আর ছনের বেড়ার একটি ভাঙ্গা ঘর ছিলো নওগাঁর বদলগাছীর মাহমুদপুর গ্রামের ছহীফ উদ্দিনের। কিন্তু সেই ঘরেও তার থাকার সুযোগ হয়নি। সেসব এখন কেবল স্মৃতি।

৮০ বছরের বৃদ্ধ ছহীফ উদ্দিন জানান, ঘরে দুই সন্তান নিয়ে থাকতো ছেলে আর ছেলের বউ। তার থাকার জায়গা ছিলো বারান্দায়। এভাবে শীতকালে কনকনে ঠাণ্ডা আর বর্ষায় বৃষ্টির পানির সাথে সংগ্রাম করে পার করেছেন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর।

ছেলে রিকশা ভ্যান চালায়। কখনও-কখনও দিন মজুরের কাজ করে। সেই আয়েই চলে সংসার। দরিদ্রতা যেন তাদের পিছু ছাড়ে না। অভাবের সংসারে নতুন করে একটি ঘর নির্মাণ তাদের কাছে কেবলই দুঃস্বপ্ন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প আশ্রায়ণ-২ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে।

প্রকল্প থেকে ছহীফ উদ্দিন পেয়েছেন একটি আধপাকা টিনের ঘর ও একটি টয়লেট। হস্তান্তরের আগেই সেই বাড়িতে উঠেছেন। বসবাস করছেন। সেখানে তারা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন। কারণ শীতের তীব্রতা আর বর্ষায় বৃষ্টির পানি গায়ে পড়ার আর দুশ্চিন্তা নেই তাদের।

একই রকম ঘর পেয়েছেন বদলগাছীর চক-গোপিনাথ গ্রামের শিরিন আক্তারও। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী ছাগল বেচা-কেনার ব্যবসা করেন। অল্প আয়ের সংসার। সন্তানদের নিয়ে কোন রকমে বেড়ার ঘরে বসবাস করতাম। জমি থাকলেও সংসারে অভাবের কারণে নতুন একটি বাড়ি তৈরি করার সামর্থ ছিলো না। সরকারি ভাবে বাড়িটি পাওয়ায় খুব সুবিধা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে। তাই নিশ্চিন্তে এই ঘরে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছি।’

শুধু ছহীফ উদ্দিন আর শিরিন আক্তারই নয়; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের এমন ঘর পেল নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ১০১ পরিবার। ঘরগুলোর কাজ প্রায় শেষ। অল্পদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করা হবে। তবে অনেকে নতুন ঘর পেয়ে খুশিতে আগে ভাগেই বসবাস শুরু করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল বছরে ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে বদলগাছী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ১০১ টি পরিবারকে আধাপাঁকা টিনের বাড়ী তৈরি করে দেওয়ার বরাদ্ধ আসে। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘সবার জন্য বাসস্থান’ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে ৯৬ টি, আধাইপুর ইউনিয়নে ১টি, বদলগাছী সদর ইউনিয়নে ৩টি ও বালুভরা ইউনিয়নে ১ টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। একইসাথে উপকারভোগীরা একটি করে তৈরি নতুন টয়লেট পেয়েছেন। ঘর ও টয়লটের জন্য বরাদ্ধ ছিল ১ লাখ টাকা করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় ফেব্রুয়ারী-মার্চে।

প্রকল্প থেকে নতুন ঘর বদলগাছী উপজেলার পেয়েছেন থুপশহর গ্রামের আনোয়ার, আবুবক্কর সিদ্দিক, রশিদা বেগম ও চকমথুর গ্রামের শিউলি, দরিয়াপুরের শাহিদা বেগম সহ সেখানকার ২০ থেকে ২৫ জনের সাথে কথা হলে তারা জানান, দীর্ঘ দিনের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হয়েছে। নিজের জায়গা থাকলেও ঘর করার সামর্থ ছিলো না। সরকারি প্রকল্পে ভাল মানের টিনের দুই-চালা ছাউনী, শক্ত খুঁটি, জানালা দরজা ও পাকা মেঝের উঁচু ঘর পেয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান জানান, হতদরিদ্রদের জন্য এমন একটি সুন্দর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছে। তিনি বলেন, ঘর ও টয়লেটের পাশাপাশি একটি করে টিউবয়েল প্রদান করলে আরো সুবিধা হবে বলে তিনি মনে করেন।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুম আলী বেগ বলেন, যারা ঘরগুলো পেয়েছেন তারা একেবারে হতদরিদ্র। তাদের অনেকেই বেড়ার ঘরে খুব কষ্টে জীবন যাপন করতেন। অনেকে ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করতেন। এখন তারা অনেকটাই ভাল ভাবে থাকতে পারছেন। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১০১ টি ঘরের কাজ প্রায় ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ঘরের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। হতদরিদ্রদের চাহিদা অনুযায়ী আরো বরাদ্ধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বরাদ্ধ পাওয়া মাত্র আগামীতে উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোতেও বরাদ্ধের তালিকা সাপেক্ষে হতদরিদ্রদের ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।









Leave a reply